আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 37 মিনিট আগে

মাত্রই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে ভুটান থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ১৮ এপ্রিল, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভুটান গিয়েছিলেন। আর ২০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে দ্রুকএয়ারের কেবি-৩০২ ভিভিআইপি ফ্লাইটে করে ঢাকায় আসেন তিনি।

bangladesh bhutan relation

প্রধানমন্ত্রীর তিন দিনের এই ভুটান সফরে কী অর্জন বাংলাদেশের? কিংবা প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে পারস্পরিক সমঝোতার ক্ষেত্রে ভুটান-বাংলাদেশ সম্পর্ক কতোটুকু অগ্রগতি পেলো –এসব প্রশ্ন এখন ঘুরে-ফিরে সংশ্লিষ্ট সবার মুখে।

ইতোমধ্যেই অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর ভুটান সফরকে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সাম্প্রতিক ভারত সফরের মতোই আরেকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ সফর বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, এই তিন দিনে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভুটান-বাংলাদেশ আলোচনার যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান সফরে ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিলো নৌ প্রটোকল রুট ব্যবহারসংক্রান্ত এমওইউ। এই চুক্তির ফলে স্থলবেষ্টিত দেশ ভুটান বাংলাদেশের বন্দর ও নদী ব্যবহারের সুযোগ পাবে। আমদানি-রপ্তানির সুবিধা হওয়ায় ভুটানের জন্য এই সুযোগ অনেকটা লুফে নেওয়ার মতো। পাশাপাশি বাংলাদেশও আর্থিকভাবে লাভবান হবে এবং দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে বাংলাদেশের স্থায়ী কোনো দূতাবাস ছিলো না। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে ভুটান বাংলাদেশের স্থায়ী দূতাবাস নির্মাণের জন্য বাংলাদেশকে জমি দিয়েছে। ইতোমধ্যে ওই জমিতে দূতাবাস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া বিদ্যুৎ, পানিসম্পদ ও যোগাযোগ খাতে দ্বি-পক্ষীয় ও উপ-আঞ্চলিকভাবে একসাথে কাজ করার ব্যাপারে ঢাকা ও থিম্পু একমত হয়েছে। ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনাকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গেছে বাংলাদেশ।

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীই আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে একমত পোষণ করে বিবিআইএন মোটর ভেহিকেল এগ্রিমেন্টের ব্যাপারে তাদের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অধিকতর সম্প্রসারণ ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান সফরে। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক, সিরামিক, ওষুধ, পাট, পাটজাত ও চামড়াজাত পণ্য, প্রসাধন সামগ্রী ও কৃষি পণ্য ভুটানে রফতানির প্রস্তাব দিয়েছে। ভুটানও লাইম স্টোন পাউডার (গুঁড়া চুন), জিপ্যাম ও ক্যালসিয়াম কার্বোনেট ইত্যাদি রফতানিতে শুল্ক ছাড়ের সমস্যা দূর করায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

এছাড়া দুই দেশ এই অঞ্চল ও সর্বোপরি বিশ্বের বৃহত্তর শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য একত্রে কাজ করার ব্যাপারে সম্মত হয়। এদিকে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়ায় ভুটানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুই দেশই বিমসটেক, সার্ক ও জাতিসংঘসহ অন্যান্য সব প্রধান ইস্যুতে পারস্পরিক সহযোগিতার ব্যাপারে একমত হয়েছে।

সুতরাং এটা ধরেই নেয়া যায় যে, বর্তমানে ঢাকা-থিম্পু কূটনৈতিক সম্পর্ক অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে খুব ভালো অবস্থানে রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের এক নবযাত্রা সূচিত হয়েছে। এমন অবস্থায় দুই দেশই সমৃদ্ধির পথে পুনঃ পুনঃ এগিয়ে যাবে, এমনটাই সবাই প্রত্যাশা করছেন।

Add comment

Security code
Refresh


advertisement