আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 26 মিনিট আগে

সুন্দরবনের কাছে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কাজ পেলো ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ভারত হেভি ইলেক্ট্রিক্যালস লিমিটেড (বিএইচইএল)। তাদের সর্ববৃহৎ বৈদেশিক অর্ডার হিসেবে উল্লেখ করে আজ মঙ্গলবার বিএইচইএল ভারতীয় এক সংবাদ মাধ্যমকে জানায় যে, তারা বাংলাদেশে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে দশ হাজার কোটি টাকার কাজ পেয়েছে।

rampal location

১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনের জন্য আয়োজিত ৩ স্তরের নিলাম শেষে বিএইচইএলের নির্বাচন করে চুক্তি সই করে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানি। ভারতীয় এনটিপিসিবিএস এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন সংস্থা (বিপিডিবি) এর যৌথ উদ্যোগে এই তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলবে।

বিএইচইএলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজের জন্য বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানির পক্ষে ইন্ডিয়ান এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ নেওয়া হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় ১৫০ কোটি ডলারের মধ্যে ১৩৯ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রায় এবং বাকি অর্থ ভারতীয় মুদ্রায় নেওয়া হবে।

এর আগে ভারতীয় এই কোম্পানি বাংলাদেশে বাঘাবাড়িতে ১০০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং সিদ্ধিরগঞ্জে ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ করেছিল।

চুক্তি অনুযায়ী বিএইচইএল ১৩২০ মেগাওয়াটের রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্পটির পরিকল্পনা, প্রকৌশল ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন, সরবরাহ, নির্মাণ, পরীক্ষা এবং কার্যনির্বাহীতার মতো জটিল বিষয়গুলো তদারকি করবে।

এছাড়াও তারা একটি জেটি এবং একটি নদীর জল শোধনাগার স্থাপন করবে। এ সব কাজে ব্যবহৃত প্রকল্পটির প্রধান সরঞ্জামসমূহ ভারতে বিএইচইএলের ত্রিচি, হরিদ্বার, হায়দারাবাদ, রানিপেট, ভোপাল, বেঙ্গালুরু এবং ঝাসিতে অবস্থিত কারখানায় উৎপাদিত হবে। কোম্পানির বিদ্যুৎ খাতের নির্মাণ বিভাগ নির্মাণ ও স্থাপনা কার্যক্রমের জন্য দায়ী থাকবে।

প্রসঙ্গত, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের জন্য নিলামপত্র জমা দেয় ভারতের বিএইচইএল; জাপান ও ভারতের যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ম্যারুবেনি ও লারসেন অ্যান্ড টার্বো, চীনের হারবান, অ্যাল্সটোম চায়না এবং এটার্ন কোম্পানি। সেসময় সব নিলামপত্রের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চুক্তির জন্য বিএইচইএলকে নির্বাচন করেছিল বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানি।

তবে এ প্রকল্প নিয়ে পরিবেশগত বেশকিছু উদ্বেগ রয়েছে। সমাজকর্মীরা সতর্ক করছেন যে, কয়লাচালিত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে তা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দেবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের পূর্বে পরিবেশগত পরীক্ষা- নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে অনেক পরিবেশবাদী সংগঠন।

তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বন্দর ও খনিজসম্পদ রক্ষাবিষয়ক জাতীয় কমিটির সেক্রেটারি আনু মুহাম্মদ বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তা সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান ও জীববৈচিত্র্যের ওপর এক অপরিবর্তনীয় বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। আমাদের বিদ্যুতের প্রয়োজন রয়েছে। তবে সেটা সুন্দরবনের ক্ষতি করে নয়।

Add comment

Security code
Refresh