আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 57 মিনিট আগে

জাতীয় ক্রিকেট দলের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের বাবা মাহবুব হামিদ তারার বিরুদ্ধে বগুড়ায় অবৈধভাবে স্কুল প্রতিষ্ঠা করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ আছে, মুশফিকের বাবা বগুড়ায় ৪৭ বছরের স্বনামধন্য এমপিওভুক্ত মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, ভবন ও আসবাবপত্র ব্যবহার করে অন্য একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। পাঁচ-ছয় বছর ধরে চালু হওয়া সেই প্রতিষ্ঠানটির নাম 'বর্ণালি বিদ্যায়তন'।

Mufiqs father tara

মুশফিকের বাবার প্রতিষ্ঠা করা বর্ণালি নামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী দু’ভাগে বিভক্ত হয়েছেন। অভিযোগ আছে, স্কুল নিয়ে এই দ্বন্দ্বের কারণেই খুন হন স্কুলছাত্র মাসুক। দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন দ্বন্দ্ব আরো তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে সচেতন জনগণ ধারণা করছেন। মুশফিকের বাবার এমন দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি ইতোমধ্যে সারাদেশে ব্যাপক আলোচিত।

বগুড়ার শহরতলি এলাকার মাটিডালিতে সরেজমিনে দেখা গেছে, দেশ স্বাধীনের আগের বছর অর্থাৎ ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয়। সেই বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই 'বর্ণালি বিদ্যায়তন' ব্যক্তিগত প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। এই প্রতিষ্ঠানটি কয়েক বছর আগে স্থাপিত হয়। যেখানে নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন, ক্যাম্পাস, বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিলসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ব্যবহার করছে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বর্ণালি বিদ্যায়তনে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যানারে লেখা আছে, 'বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের পৃষ্ঠপোষকতায় ও সুদক্ষ ম্যানেজিং কমিটি পরিচালিত’ বর্ণালি বিদ্যায়তন। তবে মুশফিকের বাবা মাহবুব হামিদ তারা আলোচিত দুই প্রতিষ্ঠানেরই পরিচালনা কমিটির সভাপতি।

এর আগে গত শনিবার মাটিডালি হাজিপাড়ায় খুন হওয়া নবম শ্রেণীর ছাত্র মাসুক ফেরদৌসের বাবা জাসদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক এমদাদ বলেন, 'মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে বিগত ৫ বছর ধরে মুশফিকুর রহিমের পৃষ্ঠপোষকতায় ও তার বাবা মাহবুব হামিদ তারার পরিচালনায় নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাইভেট প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে। মাহবুব হামিদ অবৈধভাবে ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হয়েছেন। প্রভাব খাটিয়ে তিনি ক্যাম্পাসে ব্যক্তিগতভাবে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন।'

অভিযুক্ত মাহবুব হামিদ তারা জানান, 'দেশের প্রচলিত আইন-কানুন মেনেই বর্ণালি বিদ্যায়তন প্রতিষ্ঠিত। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি নেই।’ মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লাল মিয়া জানান, আমি ২০১৪ সালে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পেয়েছি। আমার আগের প্রধান শিক্ষক দুলাল হোসেন কীভাবে একই ক্যাম্পাসে বর্ণালি বিদ্যায়তন করেছেন বা অনুমতি দিয়েছেন সে ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারবো না।’

তবে দুই প্রতিষ্ঠানের আলাদা ম্যানেজিং কমিটি এবং ব্যাংক হিসাব আছে বলে জানান লাল মিয়া। এদিকে বগুড়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র বলেন, ' যদি পড়াশোনা বা অন্য কোনভাবে বিঘ্ন না ঘটে তবে একই ক্যাম্পাসে দুই নামে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে। খোঁজ নেওয়া হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকৃতি পেয়েছে কি না। বা অন্য কোন অনিয়ম থাকলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

Add comment

Security code
Refresh


advertisement