আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 11 মিনিট আগে

প্রযুক্তি যেমন মানুষের জীবনকে করেছে সহজ তেমনি অনেক ক্ষেত্রে এক ধরনের দুষ্টু লোকের কারণে এই প্রযুক্তিই হয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রাণ নাশের কারণ। চারদিকেই যেন ভেজালের জয়জয়কার। খাবারে ফরমালিন, চালে প্লাস্টিক, খাদ্যে রঙ এসব যেন আমাদের নিত্য সঙ্গী। এবার জানা গেল, দেশের ঐতিহ্যবাহী গুড়েও ভেজাল।

Molasses of bd

এক শ্রেণির অতিলোভী ব্যবসায়ী চিনি, ময়দা আর রং মিশিয়ে তৈরি করছেন নকল গুড়। ডাক্তাররা বলছেন, এসব গুড় স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। গত রোববার নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় তিনটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ভেজাল গুড়ের বিষয়টির সন্ধান পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল খেজুরের গুড় জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।

রোববার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজ্জাকুল ইসলামের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বড়াইগ্রাম উপজেলার বেশ কয়েকটি গুড় তৈরির কারখানায় অভিযান চালায়। অভিযানে ভেজাল গুড় তৈরির সত্যতা পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে ঘৃণ্য এবং প্রতারণামূলক এই কাজে জড়িত তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ এবং জরিমানাও করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে চিনি, ময়দা, রংসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপকরণ মিশিয়ে ভেজাল খেজুরের গুড় তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা কারখানা মালিকরা। এই ঘটনায় অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম নামের এক কারখানা মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। এছাড়াও কোরবান আলী ও সাজদার আলী নামের অন্য দুই কারখানার মালিককে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান শেষে সকল ভেজাল গুড় ধ্বংস করা হয়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, খেজুর রসের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে জাল দিলে এক ধরনের বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে। ভেজাল গুড়ের তৈরি পিঠাপুলি বা অন্যান্য খাবার খেলে পেটের পীড়াসহ লিভার ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সাধারণ মানুষ এমন ভেজাল পণ্য তৈরির সঙ্গে জড়িতদের কঠোর হস্তে দমনের আহ্বান জানিয়েছেন।

Add comment

Security code
Refresh


advertisement