আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 15 মিনিট আগে

পুলিশ কনস্টেবলের মোটরসাইকেলে একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কা লাগে। এরপর ক্ষেপে যান ওই পুলিশ সদস্য। মোটরসাইকেল থেকে নেমেই ভাঙতে শুরু করেন প্রাইভেটকারটি। সেই সঙ্গে মারধর করেন প্রাইভেটকারটির আরোহী চার তরুণকে। 

police in trouble by people

রাস্তায় পুলিশ সদস্যের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ঘিরে ধরেন সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় থানার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুই পক্ষকে উদ্ধার করেন।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর শ্যামলী সিনেমা হল সংলগ্ন রোডে এই ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত ওই পুলিশ সদস্যদের নাম মো. আরিফুল। তিনি গুলশান কূটনৈতিক জোনে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত আছেন। মারধরের শিকার প্রাইভেটকারে থাকা ওই চার তরুণ হলেন রাগিব, নাহিন, আহনাফ মাহাদী ও আজমাইল ইসলাম। তাদের সকলের বয়স ১৬ থেকে ১৮ বছর।

প্রত্যক্ষদর্শী, ভুক্তভোগী এবং পুলিশ জানায়, রাগিব এবং তার বন্ধুরা মিলে প্রাইভেটকারে করে বনানী যাচ্ছিলেন। প্রাইভেটকারটি চালাচ্ছিলেন রাগিব। গাড়িটি মোহাম্মদপুর রিং রোডস্থ বিডিআর শপের গলি দিয়ে বের হওয়ার সময় কনস্টেবল আরিফুলের মোটরসাইকেলের সঙ্গে সামান্য ধাক্কা লাগে। এই দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল বা প্রাইভেটকারের উল্লেখযোগ্য কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি মোটরসাইকেল আরোহী ওই পুলিশ সদস্য। তিনি মাথায় থাকা হেলমেট দিয়ে প্রাইভেটকারে এলোপাথারি আঘাত করতে শুরু করেন। ভেঙ্গে ফেলেন গাড়ির কাঁচ। এরপর চার তরুণকেও লাঠি এবং হেলমেট দিয়ে মারতে থাকেন।

স্থানীয়রা জানান, পুলিশ সদস্যের এমন আচরণে উপস্থিত জনতা প্রতিবাদ করেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী লোকমান মিয়া বলেন, 'জুমার নামাজে যাওয়ার সময় হঠাৎ দেখি একজন গাড়ি ভাঙছে আর কয়েকজন কমবয়সী ছেলেকে মারধর করছে। এরপরই এগিয়ে যাই। পরে জানতে পারি তিনি পুলিশের লোক। এরপর আরো অনেকেই আরিফুলকে ঘিরে ধরেন। শেষ পর্যন্ত আদাবর থানা পুলিশ আরিফুলসহ প্রাইভেটকারের চার তরুণকে থানায় নিয়ে যায়।'

broken car

জানা গেছে, ওই গাড়িটির মালিক জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের কার্ডিওলজি বিভাগের সার্জন ডা. সাবরিনা আরিফ। তার ছেলে রাগিবই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। গাড়িতে থাকা রাগিবের বন্ধু আহনাফ মাহাদী বলেন, 'মটর সাইকেলটির সঙ্গে তেমন কোনো ধাক্কাই লাগেনি। তারপরও উনি আমাদের গাড়ি ভাঙচুর করেন। গালিগালাজ আর মারধরও করেন। প্রথমে হেলমেট পরে লাঠি দিয়ে মারেন।' এ সময় তিনি আঘাতের চিহ্ন দেখান।

আদাবর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, 'আমরা ক্ষতিগ্রস্ত ওই প্রাইভেটকারটি, মোটরসাইকেল, পুলিশ সদস্য এবং চার তরুণকে থানায় এনেছি। ইতোমধ্যে তরুণদের অভিভাবকরাও এসেছেন। আমরা সংঘর্ষের বিষয়টি শুনেছি। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।' রাগিবের বাবা আরিফ চৌধুরী রাত ৯টায় বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার প্রক্রিয়া চলছে।'

Add comment

Security code
Refresh