আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 27 মিনিট আগে

শীতের আমেজ চলে গিয়ে গরমের আগমনী সংকেত পাওয়া যাচ্ছে রাজধানীর বাতাসে। প্রতিদিনই একটু একটু করে গরম বাড়ছে। তবে রাজধানীর কাঁচাবাজারের চেহারাটা একটু ভিন্ন। প্রতিদিনই সারা দেশ হতে ট্রাকের পর ট্রাক শীতের সবজি এসে পৌঁছাচ্ছে সবজির আড়তগুলোতে। শীতের বিদায় আর গরমের পূর্বাভাস প্রতিদিনই কিছু না কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসছে সবজির দামে। রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো ঘুরে সেই পরিবর্তনের কথাই জানাচ্ছেন আমাদের প্রতিবেদক।

karwan bazar sobji

রাজধানীর কাঁচাবাজারে গত সপ্তাহের মতোই শীতের সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রামপুরা, ধানমন্ডি এবং মোহাম্মদপুর অঞ্চলে সরেজমিন খুচরা বাজারগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় শিম, টমেটো, ফুলকপি, পাতাকপি, গাজর, লাউ থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের শীতের সবজির দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে। শিম বিক্রি হচ্ছে স্থানভেদে ৩৫-৪০ টাকা দরে।

ফুলকপি, পাতাকপি, টমেটো, শালগম বিক্রি হচ্ছে কেপি প্রতি ২০-২৫ টাকায়। সবজিগুলো গত সপ্তাহে একই দামে বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। শীতের সবজির দাম কম থাকলেও পেঁয়াজের দর লাগাম ছাড়তে শুরু করেছে এ সপ্তাহে। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা দরে।

সবজির মতো আমিষের বাজারেও তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি এই সপ্তাহে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ব্রয়লার মুরগি (১৩৫-১৪০ টাকা), গরু (৪৮০-৫০০ টাকা) এবং খাসির মাংসের দাম গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর কারওয়ানবাজার পাইকারি ব্যবসায়ী জীবন মিয়া বলেন, 'এখনো প্রতি দিন ট্রাক ভর্তি শীতের সবজি আসছে। ফলে আগামী কিছু দিন শীতের সবজি দর বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তেমন নেই। টমেটো, লাউ, গাজর, পাতাকপি, ফুলকপির সরবরাহ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এই সপ্তাহে। শীতের শেষ দিকে সবজি ভালো বেচাকেনা হচ্ছে।'

এদিকে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি বেগুন গত সপ্তাহের মতো ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আলু, মুলা বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা দামে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে। ঢেঁড়স খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা দামে। মিষ্টি কুমড়া আকার অনুসারে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়।

তবে কাঁচামরিচের ঝাল লাগতে শুরু করেছে কাঁচাবাজারে। গত সপ্তাহের ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকা দরে। পটল, করল্লা বিক্রি হতে দেখা গেছে ১৪০ টাকা কেজিতে।

ধানমণ্ডিতে বাজার করতে আসা জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা মো: আনোয়ার হোসেন আমিন বলেন, শীতের সবজির দাম কিছু দিন একই রকম থাকার কারনে অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছি। তবে কিছু দিন পরপর পেঁয়াজের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি একদম সন্তোষজনক নয়।

কারওয়ানবাজারে পাইকারি বিক্রেতা ইমতিয়াজ জানান, বাজারে সরবরাহ ভালো তাই দাম স্থিতিশীল। তবে সবজি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাজধানীতে আসার পথে যে খরচ দিতে হয় তা বন্ধ হলে দাম আরো কমবে বলে আশা করি। আসলে কিছু সিন্ডিকেটের হাতে সব কিছু নির্ভর করে। দর কম–বেশি হওয়ার পেছনে আমাদের কিছু করার থাকে না।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মতিউল আলম বলেন, 'বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা দরে। পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে এমন কিছু সিন্ডিকেটের কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। সরবরাহ বেশি থাকলেও সিন্ডিকেট না চাইলে দাম কমে না। মূলত তাদের কারণেই এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজেরর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে কেজিতে ৫ টাকা।'

Add comment

Security code
Refresh