আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 27 মিনিট আগে

আকাশ ছোঁয়ার ইচ্ছা মানুষের সেই প্রাচীন কাল থেকেই। কালে কালে মানুষের সেই ইচ্ছা আরও তীব্র হয়েছে। গুহায় বসবাস করা মানুষ একটা সময় উঁচু পাহাড় খুঁজে নিয়ে তাঁর বাসস্থান তৈরি করতে লাগলো। সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ে বাস করা সেই মানুষটি সমাজে বাড়তি সম্মান পেতো। এই আধুনিক কালে এসেও উঁচুতে বাস করা মানুষের সম্মান একটুও কমে নি। বর্তমানে উঁচু উঁচু ভবন তৈরি করা কয়েকটি দেশের জন্য অনেকটাই মান-সম্মানের ব্যাপার। ইন্টারনেট ঘেঁটে বর্তমান বিশ্বের কয়েকটি উঁচু ভবনের কথা ২৪লাইভনিউজপেপার -এর পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।

বুর্জ খলিফা

২ হাজার ৭১৭ ফুট অথবা ৮২৮ মিটার উঁচু দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবনের জায়গাটি দখল করে রেখেছে। ২০০৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর নির্মাণ কাজ শুরু করা এই ভবনটি তৈরিতে খরচ হয়েছে পাক্কা দেড় শ কোটি মার্কিন ডলার। কাজ শেষ করতে সময় লেগেছে পাঁচ বছর। বুর্জ খলিফা একসঙ্গে ২৫ হাজার লোকের ভার বহন করতে পারে। ১৬০ তলা বিশিষ্ট এই ভবনটিতে আছে ৫৭টি লিফট ও আটটি চলন্ত সিঁড়ি। এলিভেটরে করে উপরে উঠতে যেনো একঘেয়ে না লাগে সে জন্য এখানে আছে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুততম এলিভেটর। ঘণ্টায় ৬৪ কিলোমিটার গতি বিশিষ্ট এই এলিভেটর সেকেন্ডে ৩৩ ফুট ওপরে উঠতে পারে। নির্মাণের পর থেকে এখন পর্যন্ত এটিই বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন।

সাংহাই টাওয়ার

দুই দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে চীনের সাংহাইয়ে নির্মিত হচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভবন ‘সাংহাই টাওয়ার’। ভবনটির উচ্চতা প্রায় ৬৩২ মিটার অথবা দুই হাজার তিয়াত্তর ফুট। ২০০৮ সালের নভেম্বরে সাংহাই টাওয়ারের নির্মাণ কাজ আরম্ভ হয়। ২০১৫ সালে ভবনটি উদ্বোধন করা হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। আমেরিকান স্থাপত্যবিদ জেনসেলের নকশায় এই সাংহাই টাওয়ার মূলত তিনটি ভবনের সমষ্টি। এর মধ্যে ১২১ তলা বিশিষ্ট সবচেয়ে লম্বা টাওয়ারটির নাম সাংহাই টাওয়ার। বাকি দুটো হচ্ছে ‘জিন মাও টাওয়ার’ এবং ‘সাংহাই ওয়ার্ল্ড ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টার’।

আবরাজ আল বাইত ক্লক টাওয়ার

বিশ্বের সর্বোচ্চ তৃতীয় ভবন হিসেবে রেকর্ড বুকে নাম লিখিয়েছে সৌদি আরবের ‘আবরাজ আল বাইত ক্লক টাওয়ার’। ৬০১ মিটার অথবা ১,৯৭২ ফুট উঁচু এই ভবনটি মক্কায় অবস্থিত। স্থপতি দার আল হান্দাসাহ কর্তৃক নকশাকৃত ক্লক টাওয়ারে তলা আছে ১২০টি। ভবনটি নির্মানের দায়িত্বে ছিলো সৌদি আরবের সর্ববৃহত ঠিকাদার কোম্পানি ‘বিন লাদিন গ্রুপ’। ভবনটির নাম ‘ক্লক টাওয়ার’ রাখার পিছনের কারণ হলো এই ভবনে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ঘড়িটি অবস্থিত। ২০০৮ সালে দোহায় এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মুসলিম আলেমরা বিশ্বব্যাপী সার্বজনীন সময় হিসেবে গ্রিনিচ মীন টাইম বাদ দিয়ে এই ঘড়ি অনুযায়ী ‘মক্কা মীন টাইম’ বা ‘এমএমটি’ পালনের আহ্বান জানান। ১৩০ ফুট ডায়ামিটারের এই মক্কা ঘড়িটি নির্মাণে সৌদি সরকারের ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়।

ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার

বিশ্বের চতূর্থ সর্বোচ্চ ভবনের জায়গাটি দখল করে রেখেছে আমেরিকার ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার’। এটি ‘ফ্রিডম টাওয়ার’ নামেও পরিচিত। আমেরিকার ম্যানহাটনে অবস্থিত এই ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার দক্ষিণ গোলার্ধের মধ্যে সবচেয়ে উঁচু ভবনের স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছে। এটির উচ্চতা ১৭৭৬ ফুট। ১০৪ তলা বিশিষ্ট এই আকাশচুম্বী ভবনটি নির্মিত হয়েছে টুইন টাওয়ার নামে খ্যাত ধ্বংস হয়ে যাওয়া পূর্বের বিশ্বখ্যাত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের স্থলে। যেটি ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।

তাইপে ফিনান্সিয়াল সেন্টার

যে ভবনটি বিশ্বের পঞ্চম সর্বোচ্চ ভবনের স্থান দখল করে আছে, সেটি হলো তাইপে ফিনান্সিয়াল সেন্টার। এটি তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেতে অবস্থিত। তাইপে ফিনান্সিয়াল সেন্টার ভবনটি ‘তাইপে ১০১’ নামেও সমান পরিচিত। নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে এই ভবনের তলার সংখ্যা ১০১। এক সময়ের বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবনের আসনটি দখল করে রাখা তাইপে ফিনান্সিয়াল সেন্টারের উচ্চতা ১৬৭১ ফুট বা ৫০৯ মিটার। ভবনটির ডিজাইন করেছেন সিওয়াইলি অ্যান্ড পার্টনারস। নির্মাণে ব্যবহার হয়েছে ইস্পাত এবং কাঁচ। অনেকটা ঐতিহ্যবাহী চাইনিজ প্যাগোডার আদলে তৈরি করা হয়েছে ‘তাইপে ১০১’ ভবনটি। তবে চীনে নির্মিতব্য ১৭৪০ ফুট উচ্চতার ‘সিটিএফ ফিনান্স সেন্টার’ ২০১৬ সালে উদ্বোধন হলেই ‘তাইপে ১০১’ বিশ্বের চতূর্থ সর্বোচ্চ ভবনের আসনটি হারাবে।

 

Add comment

Security code
Refresh