আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 27 মিনিট আগে

প্রতিটি মানুষই চায় আপন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বাঁচতে, তার সঙ্গে সুন্দর সময় কাটাতে। কিন্তু মানুষটা যদি মরে যায়, তবে সেই প্রাণহীন দেহকে আগলে কতোক্ষণই বা থাকা যায়? সমাজ, ধর্ম ও বিজ্ঞানের মতে মৃত্যুর পর দ্রুত দাফন বা শেষকৃত্য করা উচিৎ এবং এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু স্ত্রীর প্রতি প্রবল ভালোবাসায় ইংল্যান্ডের এক ব্যক্তি ছয়দিন শয়নকক্ষে স্ত্রীর মৃতদেহ আঁকড়ে ছিলেন!

man live six days with dead body of his wife

ইংল্যান্ডের ডারবিশায়ারের ডারবি শহরের বাসিন্দা রাসেল ডেভিসন। গত ২১ এপ্রিল তাঁর স্ত্রী ওয়েন্ডি ডেভিসন (৫০) জরায়ু ক্যান্সারে মারা যান। দশ বছর ক্যান্সারের সঙ্গে এই লড়াইয়ে প্রতিটি মুহূর্তে ওয়েন্ডির সঙ্গেই ছিলেন রাসেল। আর মৃত্যুর পরও সেই সঙ্গ ত্যাগ করতে পারছিলেন না রাসেল। ছয় দিন পর তাকে বিধ্বস্ত অবস্থায় স্ত্রীর মৃতদেহের সঙ্গে পাওয়া যায়।

রাসেল জানান, তিনি মৃতদেহের প্রতি সাধারণের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে চেয়েছিলেন। যে মানুষটিকে তিনি এতোটা ভালোবাসতেন, তার দেহে প্রাণ নেই বলেই তাকে মর্গে পাঠানো বা সৎকারকারীদের হাতে তুলে দিতে চাননি তিনি।

রাসেল বলেন, 'নিজেদের বাসায় রেখে আমি ওর যত্ন করতে চেয়েছি, আমাদের শয়নকক্ষে রাখতে চেয়েছি। আমি ওর পাশেই ঘুমাতে চেয়েছি।'

তিনি জানান, ২০০৬ সালে ওয়েন্ডি ডেভিসনের ক্যান্সার ধরা পড়ে। তখন এই দম্পতি প্রাকৃতিকভাবে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁরা জীবনটাকে চিকিৎসকের হাতে তুলে দিতে রাজি ছিলেন না। তাঁরা মেনে নিয়েছিলেন, যুদ্ধটা দুজনেরই। তাঁরা নিজেরাই গবেষণা করেছিলেন এবং বেঁচে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।

এই দম্পতি বিশ্বাস করেছিলেন যে, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি ছাড়াই ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব। ২০১৪ সালে ডাক্তার বলেছিল, ওয়েন্ডি আর ছয় মাসের বেশি বাঁচবেন না। সেসময় জীবনকে পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করতে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী ইউরোপ ভ্রমণে বের হন। কিন্তু গত বছরের সেপ্টেম্বরে ওয়েন্ডির ব্যথা মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেলে তাঁরা বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন। শেষ সময়ে তিনি রয়েল ডারবি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

ওয়েন্ডির মৃত্যুর পর যখন তার আত্মীয়-স্বজনরা বাড়িতে এসেছিলেন, রাসেল তাদের বলেন, 'ওয়েন্ডি খুব শান্তিপূর্ণভাবে মারা গেছেন। মৃত্যুর সময় তার কোন কষ্ট ছিল না। ছেলে ডায়লান ও আমার হাতের ওপর ও শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছে।'

Add comment

Security code
Refresh