আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 13 মিনিট আগে

মোবাইল আর সামাজিক মাধ্যমকে এখনকার যুগে সম্পর্ক ভাঙার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়। এর মধ্যেই যুগলদের জন্য আরো দুঃস্বপ্ন নিয়ে এবার অনলাইনে এসেছে ‘লাভ টেস্টার’। এর মাধ্যমে পরীক্ষা করে নেয়া হবে নিজের পার্টনার তথা সঙ্গীর বিশ্বস্ততা।

love tester online

চীনের বেশ কয়েকটি অনলাইন কোম্পানি এই সেবা দিচ্ছে। হাজার হাজার চীনা যুগল টাকা খরচ করে নিচ্ছে এই ‘লাভ টেস্টার’ সার্ভিস। উদ্দেশ্য নিজের সঙ্গী কেমন বিশ্বস্ত আর সে প্রতারণা করছে কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়া।

এই সেবা নিতে হলে প্রথমত গ্রাহককে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি জমা দিতে হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী পুরুষ অথবা নারী ‘লাভ টেস্টার’ নিয়োগ দেয়া হবে। ‘লাভ টেস্টার’কে সঙ্গীর নাম, পরিচয়, চাকরি এবং যোগাযোগের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে হবে।

এবার ‘লাভ টেস্টার’ গ্রাহকের ওই সঙ্গীর সাথে ছদ্মনামে যোগাযোগ শুরু করেন। বিশেষ করে অনলাইন সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় যোগাযোগ। প্রথমে মোহনীয় কথাবার্তা দিয়ে শুরু করে থাকেন ‘লাভ টেস্টার’। এরপর প্রলুব্ধ করতে একপর্যায়ে দেয়া হয় আকর্ষণীয় (ভুয়া) সেলফি।

এভাবে বন্ধুত্ব স্থাপন করে সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। জানতে চাওয়া হয় তার পছন্দের কেউ আছে কিনা। সম্পর্কটা আরো জমে উঠলে দেয়া হয় সাক্ষাতের প্রস্তাব। আর এই প্রস্তাবে কেউ রাজি হলেই তার সর্বনাশ। কারণ, একটু পরেই এই ব্যক্তি জানতে পারে তিনি পড়েছেন ‘লাভ টেস্টার’ ফাঁদে।

কলেজছাত্রী চেন মেংইউয়ান একজন ‘লাভ টেস্টার’ হিসেবে কাজ করে থাকেন। জানালেন কিভাবে তারা কাজটা করে থাকেন। তিনি বলেন, সবাই যে ‘লাভ টেস্টার’ ফাঁদে পড়েন বিষয়টা তেমন নয়। অনেকে শুরুতেই বন্ধুত্বের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে থাকে। তার বিশ্বস্ততার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।

তবে ব্যতিক্রম যে আছে জানালেন চেন। তিনি বলেন, অনেক পুরুষকেই তিনি প্রলুব্ধ করে সাক্ষাতে রাজি করাতে পেরেছেন। এমনকি তাদের সঙ্গী আছে বিষয়টি অনেকেই অস্বীকার করে থাকে।

কেবল নারী নয়, পুরুষ ‘লাভ টেস্টার’ও রয়েছে। অনেকেই পড়েছেন এই বিশ্বস্ততা পরীক্ষা ফাঁদে। তাদের অনেকেই এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও, ফাঁদে পড়েছেন কেউ কেউ। পরিণতিতে ভেঙেছে তাদের সম্পর্ক। এছাড়া দেখা গেছে, পুরুষদের চেয়ে নারীদের পরীক্ষা করা কঠিন। এজন্য পুরুষ ‘লাভ টেস্টার’রা টাকার অংকটা একটু বেশিই নিয়ে থাকে।

Add comment

Security code
Refresh