আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 00 মিনিট আগে

প্রতি বছর নভেম্বরের একটি শুক্রবারকে ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ হিসেবে উদযাপন করে আমেরিকানরা। নামটা শুনে অনেকেই দিনটাকে অলক্ষুণে মনে করে থাকেন। মনে করেন, অশুভ বলেই হয়তো আমেরিকানরা দিনটাকে ‘ব্ল্যাক’ বলে অভিহিত করে। আসলে কিন্তু তা নয়।

black friday

ব্ল্যাক ফ্রাইডে আমেরিকার জনগণের কাছে বহু আকাঙ্খিত একটি দিন। অনেক আমেরিকান সারা বছর ধরে শুধুমাত্র এই দিনটির আশায় বসে থাকেন। এই দিনে আমেরিকার প্রায় সব ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য অস্বাভাবিক মূল্য ছাড়ে বিক্রি করে দেয়। ফলে আমেরিকায় সারা বছরে যে পরিমাণ বেচা-কেনা হয়, তার প্রায় অর্ধেক পরিমাণ হয় শুধুমাত্র এই একটি দিনেই।

কিন্তু বেচা-কেনা বাড়লে তো ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা উভয়ের জন্যই লাভজনক। তাহলে কেনো শুধু শুধু এই দিনের নাম ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’?

আমেরিকায় নভেম্বর মাসের চতুর্থ বৃহস্পতিবার পালিত হয় ‘থ্যাঙ্কস গিভিং ডে’। এদিন আমেরিকার জনগণ একে অপরকে ধন্যবাদ জানায়। ঠিক এর পরদিন শুক্রবার পালিত হয় ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’।

ব্ল্যাক ফ্রাইডে’র দিন পুরো আমেরিকায় এতো বিপুল পরিমাণ বেচা-কেনা হয় যে, এই একদিনে আমেরিকার অর্থনীতির সূচক এক লাফে অনেকখানি সামনে এগিয়ে যায়। সারা বছর লাল কালিতে লোকসান বা বাকি লিখতে লিখতে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া ব্যবসায়ীরা এদিন দোকানের খাতায় লাভের অঙ্ক লিখে কূল পান না। আর লাভ তো লিখতে হয় কালো কালিতেই! তাই এদিনের নাম ব্ল্যাক ফ্রাইডে হতে পারে।

তবে আসল ঘটনা আরও অনেক পেছনে। ১৮৬৯ সালে আমেরিকা ভয়াবহ এক অর্থনৈতিক মন্দার ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলো। সেই মন্দা থেকে উত্তরণের জন্য একটি বিশেষ দিনের কথা চিন্তা করে ব্যবসায়ীরা। যেদিন তারা অবিশ্বাস্য অঙ্কের নানা মূল্যছাড় ঘোষণা করবে জনগণের জন্য। ফলে পাগলের মতো কেনাকাটা করবে মানুষ।

বাস্তবে আসলে হয়েছেও তাই। এদিন আমেরিকার মানুষ এক ধরণের পাগলের মতো আচরণ করে। ভোর পাঁচটায় দোকান খুলে মূল্যছাড়ে বিক্রি হবে বলে আগের দিন বিকাল থেকেই দোকানের সামনে লাইন দেয় ছোট-বড় সবাই। কে লাইনের আগে যাবে সেটা নিয়ে মারামারিও হয় মাঝে মাঝে।

১৮৬৯ সালে চালু হওয়া এই ব্ল্যাক ফ্রাইডে এখনও চালু আছে। এ বছরও ব্ল্যাক ফ্রাইডে উপলক্ষে আমেরিকায় রেকর্ড সংখ্যক পরিমাণ বেচা-কেনা হয়েছে।

আপনি আরো পড়তে পারেন

বাংলাদেশ-মিয়ানমার দুই দেশের আচরণকে ‘নিষ্ঠুর’ বলছে এ্যামনেস্টি!

জাতিসংঘ: মিয়ানমারে জাতিগতভাবে রোহিঙ্গা নিধন চলছে

ট্রাম্পের চাইতে ২০ লাখ ভোট বেশি পেয়েছেন হিলারি

ভোট পুনর্গণনার দাবি, বদলে যেতে পারে নির্বাচনের ফলাফল!

রোহিঙ্গা সমস্যায় 'মুসলিম জাতিসংঘ' গঠনের হুঁশিয়ারি

 

Add comment

Security code
Refresh