আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 27 মিনিট আগে

নাহিদ সাহেবের বোন থাকেন পাশের ফ্ল্যাটেই। বোনের হাজব্যান্ড বিদেশে থাকায় নিজের সংসারের পাশাপাশি বোনের সংসারটাও তিনিই সামলান। নাহিদ সাহেবের সংসারে এতদিন এই নিয়ে কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু বিয়ের পর নাহিদ সাহেবের বউ আর বোনের মাঝে বাঁধে দ্বন্দ্ব। পরিবারের কিছু কিছু সিদ্ধান্তে ননদের মতামতে উনার চরম আপত্তি। নাহিদ সাহেবের বোনও ভাবীর সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন না। এ নিয়ে অশান্তি লেগেই থাকে। 

womens quarrel

শাশুড়ি ওদের দুজনকেই বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু মেয়ে কথা মানতে নারাজ আর বৌমাও মেনে নেয়ার পাত্রী নন। এমন ঘটনা আমাদের সমাজের খুব পরিচিত। দিনের পর দিন চলে আসছে এই মনোমালিন্য। চলুন জেনে নেই কিছু পরামর্শ-

ননদ যা করতে পারেন
  • বাপের বাড়ির লোকেদের নিজের বাড়ির নিয়ম মানতে বাধ্য করবেন।
  • বাড়ির মেয়ে বলে সবসময় কী করা উচিত, কি করা উচিৎ না তা ভাবীকে বলতে থাকবেন না। তাঁর বিবেচনা অনুযায়ী তাঁকে চলতে দিন।
  • আপনার বোন থাকলে তিনিও ভুল করতে পারতেন। তাই ভাইয়ের বউকেও বোনের স্নেহের চোখে দেখুন। কোন কিছু নিয়ে সমস্যা হলে ডেকে বুঝিয়ে বলুন। যুক্তি দিয়ে কথা বলবেন। ভাল লাগছে না বলেই খুঁত ধরবেন না। 
  • নতুনকে মেনে নিতে শিখুন। নতুন মানেই খারাপ, এরকম ভাববেন না।
  • বাড়ির নিয়ম বুঝতে ওঁকে সময় দিন। প্রথম থেকেই দোষারোপ করবেন না।
  • ভাবী নতুন কোনও কিছু করলে অ্যাপ্রিশিয়েট করুন।
  • প্রথমেই অনেক কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দেবেন না। ওঁর পক্ষে কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে করা সমস্যাজনক হবে।
  • ভাই পর হয়ে গেছে এইরকম ভাববেন না। বউয়ের প্রতিও ভাইয়ের একটা দায়িত্ব আছে। সেটা বোঝার চেষ্টা করুন।
  • মায়ের কাছে অনবরত ভাইয়ের বউয়ের নিন্দে করবেন না। কোনও কিছু খারাপ লাগলে বা সমস্যা হলে সরাসরি তাকেই বলুন।
  • বাড়িতে অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করবেন না। ছোটখাটো সমস্যার সহজভাবে সমাধানের চেষ্টা করুন।
ভাবী যা করতে পারেন
  • ননদকে নিজের বোন বা বান্ধবী বানিয়ে নিন।
  • ননদ কোন ভাল উপদেশ দিলে তা মেনে নিন।
  • প্রত্যেক পরিবারের নিজস্ব কিছু নিয়ম থাকে। সেই নিয়মগুলো মেনে চলার চেষ্টা করুন।
  • বাপের বাড়ির নিয়মের থেকে আলাদা মানেই যে তা খারাপ হবে এরকম ভাববেন না।
  • অন্য পরিবারের সব কিছু নিজের মনের মতো হবে না এটাই নিয়ম, তাই অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করুন।
  • ছুটির দিনে বা সময় পেলে ননদের জন্যে কিছু করুন। ওঁর পছন্দমতো খাবার রান্না করুন। এতে উনিও নিজেকে স্পেশাল মনে করবেন।
  • কোনও ভুল করলে সঙ্গে সঙ্গে তা স্বীকার করে নিন। সমস্যা কম হবে।
  • ননদের সঙ্গে গল্প করুন। আপনার স্বামী যে ওঁকে ভালবাসেন সেটা বলুন। এতে আপনাদের মধ্যে বন্ডিং গড়ে উঠবে। ওঁর মানসিকতা আপনি বুঝতে পারবেন, আর আপনাকেও সে বুঝবে।
  • নিজেদের সমস্যা নিজেরাই মিটিয়ে ফেলুন। অন্য কাউকে এর মধ্যে টানবেন না।
  • একসঙ্গে মিলেমিশে থাকলে দু’ জনেরই ভাল লাগবে। 

 

আপনি আরও পড়তে পারেন

শাশুড়ি-বউমার সম্পর্কের রসায়ন যেমন হওয়া চাই

হয়ে উঠুন ইতিবাচক অভিভাবক

রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন

Add comment

Security code
Refresh