আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 27 মিনিট আগে

পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিনতম কাজগুলোর অন্যতম হল সন্তান লালন পালন। সন্তান লালন-পালনে বাবা-মায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক বাবা-মাই এ কাজটিকে সঠিকভাবে করতে পারেন না। ফলস্বরূপ তাদের ভুল আচরণে সন্তান বিপথগামী হয়ে পড়ে।

parenting

প্রত্যেক বাবা-মায়েরই উচিত সন্তানকে স্বাধীন হতে উৎসাহ দেওয়া। কিন্তু বেশিরভাগ বাবা-মাই এটি না করে কঠোরভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন যা তাদের ওপর নানা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার তৈরি করে।

২০১৩ সালের ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গের এক গবেষণায় দেখা যায়, বাবা-মায়ের কঠোর আচরণ প্রায়ই শিশুর আচরণগত কিংবা বিষণ্ণতাজনিত মানসিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়াও নানা ধরনের ক্ষতি হয় বলে জানান গবেষকরা।

সন্তানের সব বিষয়ে সংযুক্ত থাকার পরেও তাকে নিয়ন্ত্রণ করবেন না বা উচিতও নয়। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা সন্তানকে বিগড়ে দেয় এবং এর ফলে তারা নানা অযাচিত কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হয়ে পড়ে।

যেসব শিশু তিন বছর বয়সের আগে অতিরিক্ত টিভি দেখে তারা কথা শিখতে দেরি করে। অতিরিক্ত টিভি দেখায় অভ্যস্ত শিশুরা নানা সামাজিক, আচরণগত সমস্যায় পড়ে।

যে সকল বাবা-মা সন্তানের সামনে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন তারা নিজেদের মানসিক চাপ অনেকাংশে বাড়িয়ে দেন যা সন্তানের মাঝেও সঞ্চারিত হয়। গবেষকদের পরামর্শ হল, স্মার্টফোন ব্যবহারে বাবা-মাদের সতর্ক হওয়া উচিত।

মানসিকভাবে সন্তানের কাছাকাছি না থাকলে প্রায়ই বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয় এবং সন্তান মানসিকভাবে পিতা-মাতার সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে না। ফলে কোনো পারিবারিক বন্ধনও তৈরি হয় না। এ ধরনের সন্তানের বিপথগামী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

সন্তানকে কখনোই শারীরিক শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। শারীরিক শাস্তি শিশুর মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং এটি প্রমাণিত। সচেতনতা বজায় রেখে সন্তান লালন-পালন করুন, সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুন। 

আপনি আরও পড়তে পারেন

পরিবারের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষটির যত্ন

বাবা যখন বন্ধু

হয়ে উঠুন ইতিবাচক অভিভাবক

Add comment

Security code
Refresh