আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 51 মিনিট আগে

ল্যাপটপের বাজারে অনেক দিন ধরেই তেমন কোনো বড় খবর নেই। অ্যাপল এক বছর আগে তাদের ম্যাকবুক আপডেট করেছে বটে, ম্যাক ব্যবহারকারীরা নতুনটিতে তেমন আগ্রহ দেখাননি। আসুস, এইচপি, ডেলও দারুণ কিছু ল্যাপটপ বাজারে এনেছে। এর মধ্যে নতুন ল্যাপটপ নিয়ে এলো হুয়াওয়ে। ল্যাপটপের বাজারে হুয়াওয়ের অংশগ্রহণ সেভাবে আলোচিত নয়। তবে তারা যে ল্যাপটপটি নিয়ে এসেছে, তা বাজার কাঁপানোর জন্য যথেষ্ট।

huawei laptop in market to impress

হুয়াওয়ে মেটবুক এক্স প্রো মডেলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ডিসপ্লে। এর স্ক্রিন-টু-বডির অনুপাত ৯১ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় বর্ডারবিহীন ল্যাপটপ তৈরি করেছে স্মার্টফোন দিয়ে বাংলাদেশের বাজার মাত করা হুয়াওয়ে।

টাচস্ক্রিন সমৃদ্ধ এই ল্যাপটপে এক সঙ্গে দশ আঙুলে টাচ করা সম্ভব। অত্যন্ত নিখুঁত কর্নিং গরিলা গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে এর ডিসপ্লেতে। প্রযুক্তিগত সমৃদ্ধিতে একটুও পিছিয়ে না থেকেও হুয়াওয়ে তৈরি করেছে একেবারে হালকা এই ল্যাপটপ। এর ওজন মাত্র ১.৩৩ কেজি। ১৪.৬ মিলিমিটার পূরত্বের ল্যাপটপটির মূল কাঠামো তৈরি হয়েছে মেটাল দিয়ে।

huawei matebook pro in market

বাইরে থেকে যতোটা স্টাইলিশ, হুয়াওয়ে মেটবুক ভিতরেও ততোটা স্মার্ট। এতে ব্যবহার করা হয়েছে অষ্টম প্রজন্মের ইন্টেল কোর আই সেভেন প্রসেসর। কোর আই ফাইভ প্রসেসরের একটি আলাদা সংস্করণেও পাওয়া যাবে মেটবুক প্রো।

শক্তিশালি প্রসেসরের কারণে মেটবুক প্রোতে সব ধরনের কাজ করা যাবে বাধাহীনভাবে। সাধারণ উইন্ডোজ ল্যাপটপে ভারি কাজ করতে গেলে গতির সঙ্গে যে সমঝোতা করে চলতে হয়, মেটবুকের ক্ষেত্রে সেই শঙ্কা নেই। ফলে ব্যবহারকারীর সৃষ্টিশীলতা ও উৎপাদনের গতি বিঘ্নিত হবে না একটুও। বাধাহীন ভিডিও এডিটিং এবং গতিময় গেমিংয়ের জন্য এতে আছে শক্তিশালী গ্রাফিক্স সিস্টেম।

বিনোদনের জন্যও হুয়াওয়ে মেটবুক প্রো হয়ে উঠতে পারে অতুলনীয়। বিশেষ করে এর সাউন্ড সিস্টেম এর সমকক্ষ ডিভাইসের তুলনায় কয়েকগুণ ভালো। হুয়াওয়ে এবং ডলবি মিলে তৈরি করেছে মেটবুক প্রোর সাউন্ড সিস্টেম।

হুয়াওয়ে মেটবুকের আরো একটি মজার ব্যাপার হলো এর ওয়েবক্যাম প্রথাগত জায়গায় নয়। সাধারণত ডিসপ্লের উপরের দিকের বর্ডারে ওয়েবক্যাম স্থাপন করা থাকে। কিন্তু হুয়াওয়ে মেটবুকে ওয়েবক্যাম লুকিয়ে আছে কিবোর্ডেই। কেবল দরকার পড়লেই তা ব্যবহারকারীর ছবি ধারণ করবে এবং সেটা নির্ভর করবে ব্যবহারকারীর ইচ্ছের উপর। অর্থাৎ ক্যামেরা সংক্রান্ত নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা মেটবুক প্রোর ক্ষেত্রে ঘটবে না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এতে আছে ফিঙ্গার প্রিন্ট স্ক্যানার। এটি ব্যবহার করে ব্যবহারকারী তার আঙুলের ছাপ দিয়েই এর লক খুলতে পারবেন।

এতো কিছু থাকার পরও অনেক ল্যাপটপ দুর্বল হয়ে পড়ে ব্যাটারি সক্ষমতায় পিছিয়ে থাকায়। কিন্তু হুয়াওয়ে মেটবুকের ক্ষেত্রে সেই শঙ্কা নেই। কারণ এর ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জ থাকলে সচল থাকবে পুরো ১২ ঘণ্টা। তবে সেটিং এবং ব্যবহারের ধরনভেদে এই সময়কাল কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।

প্রিমিয়াম কোয়ালিটির হুয়াওয়ে মেটবুক অ্যাপলের ম্যাকবুকের সঙ্গে সহজেই তুলনীয় হতে পারে। দামের দিক থেকেই মেটবুক একটু বেশিই অধরা হয়ে উঠতে পারে। হুয়াওয়ের তৈরি করা সবচেয়ে সেরা ল্যাপটপটি কিনতে খরচ করতে হবে প্রায় দুই হাজার ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার টাকা।

Add comment

Security code
Refresh