আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 00 মিনিট আগে

সারা বিশ্বে তরুন প্রজন্মের জন্য মরণঘাতী ব্লু হোয়েল গেম এখন আতঙ্কের অন্য নাম। অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়ানির্ভর এই খেলাটি এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষের প্রাণ নিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অসংখ্য মেধাবী তরুণ-তরুণী অকালে মৃত্যুকে বরণ করতে বাধ্য হয়েছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশেও মরণঘাতি এই নীল তিমির আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

blue wheel game

সম্প্রতি ঢাকার হলিক্রস স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণা মাত্র তেরো বছর বয়সের নিজের একটি সুন্দর জীবন হারিয়ে ফেলল। শিশু শেণী থেকে প্রাইমারি, সেকেন্ডারি স্কুল, সবসময়ই সে ফার্স্ট গার্ল হিসেবেই পরিচিত ছিল।

গত বুধবার রাতে নিজের পড়ার ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করে স্বর্ণা। এরপর বৃহস্পতিবার ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। সেখানে ব্লু হোয়েলের কিউরেটরের নির্দেশ মতো স্বর্ণার লিখে যাওয়া একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাতে লেখা, ‘আমার আত্মহত্যার জন্য কেউ দায়ী নয়।’ লেখা শেষে গেমসের নির্দেশনা মতো একটি হাসির চিহ্ন আঁকা।

পঞ্চাশ ধাপের এই খেলাটি শুরুর দিকে বেশ মজার এবং উৎসাহোদ্দীপক হওয়ায় কিশোর-কিশোরীরা এই গেমের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হচ্ছে৷ এই গেমের বিভিন্ন ধাপে রয়েছে এমন সব টাস্ক যা একজন মানুষের মধ্যে ঘোর সৃষ্টি করে এবং খুব দ্রুত স্বাভাবিক জীবনকে বদলে দেয়। গেমের বিভিন্ন ধাপে রয়েছে নিজেকে সমাজ থেকে, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন মনোভাব সৃষ্টিকারী বিভিন্ন বিষয়ে চর্চার নির্দেশনা। যেমন সারাদিন ভৌতিক গান শোনা, উঁচু দালানের রেলিং দিয়ে হাঁটা চলা করা, ইত্যাদি।

বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নেয়ার পর তার ছবি কিউরেটরকে পাঠাতে হয়। সব ধাপ পার হওয়ার পর ৫০তম ধাপটি হলো আত্মহত্যা। আর এই ধাপ সম্পন্ন করলেই গেমের সমাপ্তি।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, যেসব কিশোর-কিশোরী ব্লু হোয়েল গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছে তারা সাধারণভাবে নিজেদেরকে সব সময় লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণ করে। তারা দিনের অধিকাংশ সময় কাটিয়ে দেয় স্যোশাল মিডিয়ায়।

রেডিও তেহরানকে দেয়া এাক সাক্ষাৎকারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সুরাইয়া পারভীন বলেন, ‘এটা খুবই আতঙ্কজনক একটি পরিস্থিতি। ইন্টারনেটভিত্তিক একটি গেম শত শত তরুণের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিভাবকদের এ ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। তাদের ছেলেমেয়েরা কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনে কী করছে; কী গেম খেলছে, তা মনিটর করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন ছাড়াও এসব বিপজ্জনক খেলা ইন্টারনেটে ব্লক করে দেওয়ার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের উপায় বের করতে হবে।’

একই রকম বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ব্লু হোয়েল ইন্টারনেটে একটা অভিশাপ।’ শিশু-কিশোরদের এই মরণঘাতী খেলা থেকে রক্ষার জন্য এসব গেমের উৎস বন্ধ করা, সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণকারীদের নজরদারি বাড়ানো এবং অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

Add comment

Security code
Refresh