আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 55 মিনিট আগে

পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজেদের নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। শারীরিকভাবে অক্ষম হয়েও নিজেদের প্রমাণ করেছেন সফল হিসেবে। শত প্রতিকুলতাকে জয় করে হয়েছেন বিখ্যাত। গোটা বিশ্বকে দেখিয়েছেন নিজেদের উজ্জ্বলতা। অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং সঠিক প্রশিক্ষণ তাদের নিয়ে গেছে সফলতার শিখরে। সে রকম কিছু করার সুযোগ এসেছে বাংলাদেশি কয়েকজন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির; তাদের সামনে সুযোগ এসেছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে অক্ষমতা নয়, তা প্রমাণের। 

disable computer

বিশ্বব্যাংক এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ প্রতিবন্ধী। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিবন্ধীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ১০ শতাংশ। বাংলাদেশে রয়েছে মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ প্রতিবন্ধী।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে চালু রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম। তাদের উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় আনতে সরকার হাতে নিচ্ছে নানা উদ্যোগ। তবে তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে প্রযুক্তি ব্যবহারে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) ২০১০ সাল থেকে তাদের জন্য ব্যবস্থা করেছে বিনামূল্যে আইটি প্রশিক্ষণের। এবার প্রতিবন্ধীদের আইসিটিতে প্রবেশ বাড়াতে আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, মূলত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বড় পরিসরে চাকরির সুযোগ করে দেওয়া জন্য উদ্যোগটি নেয়া হয়েছে।

বিসিসির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২০১৫ সালে আইটি প্রশিক্ষণ নিয়ে চাকরী পেয়েছেন ৩২জন। গত বছর সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০জনে। এবছর ৯মাসে ১১৭ জন প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি পেয়েছেন। এবার আরও বড় পরিসরে ২ হাজার ৮০০ জনকে স্বাবলম্বী করতে উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।

‘তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারসহ সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন’ প্রকল্পের মাধ্যমে আইসিটিতে দক্ষ করে প্রতিবন্ধীদের ক্ষমতায়ন করা হবে। চলতি বছরের অক্টোবরে শুরু হয়ে ২০১৯ সালের জুন মাস পর্যন্ত চলবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ। এটি বাস্তবায়নে খরচ হবে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

প্রকল্পটি সম্পর্কে বিসিসি’র নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার সরকারের সাথে আলাপকালে জানা যায়, প্রকল্পটি থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রতিবন্ধীদের মধ্য থেকে ৮০ শতাংশকে আইটি এবং ২০ শতাংশকে অন্যান্য খাতে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিবন্ধিদের জন্য বিসিসির পক্ষ থেকে প্রতিবছর ১ জানুয়ারি 'চাকরি মেলা' আয়োজ করা হয় এবং এটি অব্যাহত থাকবে। যেসব প্রতিবন্ধী মেলায় উপস্থিত হতে পারেন না তাদের জন্য ব্যবস্থা করা হয় ভার্চুয়াল চাকরি মেলার।

স্বপন কুমার সরকার বলেন, 'সবার আগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। সে লক্ষ্যেই প্রকল্পটি গ্রহণ হয়েছে। বিভিন্ন আইটি প্রতিষ্ঠান দক্ষদের চাকরি দিচ্ছে। আমরা তাদের দক্ষ করার জন্য শুধু প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো। আমাদের প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের জন্য বিশেষ মোবাইল অ্যাপস্‌ ও ই-লার্নিং তৈরি এবং প্ল্যাটফর্মের চাকরিপ্রার্থী ও চাকরিদাতা সহায়ক ‘জব পোর্টাল’ জাতীয় তথ্যভাণ্ডারসহ বিসিসি’র সাতটি আঞ্চলিক কার্যালয়ে ‘আইসিটি রিসোর্স সেন্টার’ এর উন্নয়ন করা হবে। কণ্ঠ এবং সাংকেতিক ভাষার নির্দেশনাসহ আইসিটি প্রশিক্ষণ বিষয়ক অডিও-ভিডিও টিউটোরিয়াল, ‘জাতীয় ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম’, বিশেষ কিছু লিংক ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মোবাইল অ্যাপস্‌ তৈরিও করা হবে নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডারসহ (এনডিডি) সব ধরনের প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য।'

প্রকল্পের আওতায় বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে সমাজসেবা অধিদপ্তর, বিসিসি আঞ্চলিক কার্যালয় ও আইসিটি অধিদপ্তরের সহকারী প্রোগ্রামার এবং দেশের ৭০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের ২১০ জন ডাক্তার, ৩৫০ জন কমিউনিটি ডিজ্যাবিলিটি এক্সপার্ট (সিডিই) ও ৭০০ জন শিক্ষককে। এরাই মূলত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে কাজ করবেন।

Add comment

Security code
Refresh