আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 00 মিনিট আগে

তিন দিনের ম্যাচে সাধারণত ফলাফল দেখা যায় না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় নামার আগে মুশফিকুর রহিমরা তিন দিনের যে প্রস্তুতি ম্যাচটি খেললেন, তাতেও আসেনি কোনো ফলাফল। ফলহীন এই ম্যাচে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন সাব্বির রহমান। দুই ইনিংসেই হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। কিন্তু অন্য ব্যাটসম্যানরা যে পারফর্ম করেছেন, তাতে কিছুটা সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

sabbir celebrating after having a fifty against australia at chittagong

প্রস্তুতি ম্যাচের মূল উদ্দেশ্য থাকে অচেনা কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়া। যাতে মূল সিরিজে কন্ডিশনের কারণে খুব বেশি সমস্যায় পড়তে না হয়। সে হিসেবে তিনদিনের ম্যাচটি বোধহয় খুব বেশি খারাপ যায়নি মুশফিকদের। আবার খুব যে ভালো গেছে, অন্তত পারফর্মের বিবেচনায়, সেটাও বলা যাবে না।

ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। তিনজনের হাফ সেঞ্চুরিতে ভর করে এই ইনিংসে সাত উইকেটে ৩০৬ রান করে ডিক্লেয়ার করেন মুশফিক। হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম ও সাব্বির রহমান। এ ছাড়া ৪৩ রান করেন সৌম্য সরকার, ৩৪ রান করেন ইমরুল কায়েস।

মুশফিকের ব্যাট থেকে আসা হাফ সেঞ্চুরিটি তেমন বড় কিছু মনে হয়নি। কারণ গত কয়েক বছর ধরেই ব্যাট হাতে দারুণ পারফর্ম করে আসছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। তার ব্যাটে তাই রান এলে সমর্থকদের মনে হয়— এ আর এমন কী!

সে হিসেবে মুমিনুল ও সাব্বিরের হাফ সেঞ্চুরি দুটি প্রশংসার যোগ্য। বিশেষ করে মুমিনুলের ইনিংসটির মূল্য অনেক। কারণ সর্বশেষ সিরিজে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দলের প্রথম পছন্দে তিনি ছিলেন না। কোচের দৃষ্টিতে ‘সতীনের ছেলে’ হয়ে থাকা মুমিনুলকে মূল একাদশে জায়গা পেতে প্রস্তুতিতে কিছু করতেই হতো। এই হাফ সেঞ্চুরিটি সেই অর্থে মুমিনুলের জন্য স্বস্তির ব্যাপার।

সাব্বিরের হাফ সেঞ্চুরিটি প্রমাণ করেছে যে, দক্ষিণ আফ্রিকার দ্রুত গতির কন্ডিশনের সঙ্গে তিনি ভালোভাবেই মানিয়ে নিতে পেরেছেন। রান দরকার ছিলো সৌম্য ও ইমরুলেরও। সৌম্য আপাতত চান্দিকা হাথুরুসিংহের অটোমেটিক চয়েস হলেও ইমরুলের ব্যাপারটা ছিলো ভিন্ন। কারণ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সুবিধা করতে না পারায় এই সিরিজে দলেই থাকার কথা ছিলো না তার। সাকিবের ছুটি নেয়াই মূলত পথ খুলে দিয়েছিলো তার।

ইমরুল ও সাব্বির তাদের কাজটা ঠিকভাবে করেছেন দ্বিতীয় ইনিংসেও। দুজনই করেছেন হাফ সেঞ্চুরি। দ্বিতীয় ইনিংসে সৌম্য ও তামিমের ইনজুরির কারণে ওপেনিংয়ে সুযোগ আসে ইমরুলের। লিটনের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমেই তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। দ্বিতীয় ইনিংসে ইমরুল করেন ৫১ রান আর সাব্বিরের ব্যাট থেকে আসে ৬৭ রান।

ব্যাটসম্যানদের প্রস্তুতি মোটের উপর ভালো হলেও হতাশ করেছেন বোলাররা। এক ইনিংসে বোলিংয়ের সুযোগ পেয়ে দুই উইকেট নিয়েছেন শফিউল ইসলাম। দুই উইকেটের বেশি পাননি আর কেউ।

২৮ তারিখ থেকে শুরু হবে মূল সিরিজ। পচেফস্ট্রুমে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। সিরিজে মোট দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে এবং দুটি টি-টোয়েন্টি থাকছে। টেস্টে না থাকলেও ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি খেলতে দলের সঙ্গে যোগ দিবেন সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মর্তুজা।

Add comment

Security code
Refresh


advertisement