আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 20 মিনিট আগে

বিতর্কিত এক মন্তব্যের কারণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অনেক পরিচিত নামও বিরাট কোহলির সমালোচনা করছিলেন। ভারতের জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে রীতিমতো ধুয়ে দিয়েছেন কোহলিকে। এবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের ‘বকুনি’ও খেতে হলো বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানকে।

captain virat kohli

কদিন আগে এক ভক্তকে ‘দেশ ছেড়ে যাও’ বলেছিলেন কোহলি। ৩০তম জন্মদিনে ‘বিরাট কোহলি অ্যাপ’ চালু করেন তিনি। সেখানে কোহলির বিষয়ে খুটিনাটি জানতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। ভক্তদের খুদে বার্তা পাঠানোর সুযোগও আছে। কিন্ত অ্যাপ যাত্রার শুরুতেই জড়িয়ে গেলেন ঝামেলায়। খুদে বার্তার মাধ্যমে এক ভক্ত বলেছিলেন, তার (কোহলি) ব্যাটিং ভালো লাগে না। ভারতীয়দের তুলনায় ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংই বেশি ভালো লাগে।

এই কথা শুনতেই তেলে-বেগুনে চটে যান কোহলি। প্রশ্নকারীকে দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা বলেন ভারতীয় অধিনায়ক। ভারতে থেকে অন্য দেশের কাউকে পছন্দ করতে পারেন না এমন কথাও বলেন কোহলি। তিনি বলেন, 'আমার মনে হয়, আপনার ভারতে থাকা উচিত নয়। দেশ ছেড়ে দিয়ে অন্য কোথাও থাকুন। এই দেশে থেকে কেন অন্য দেশকে ভালোবাসছেন? আমাকে পছন্দ করেন না, তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু এ দেশে থেকে আপনার অন্য দেশের কিছু পছন্দ করা উচিত বলে আমি মনে করি না। আগে নিজের অগ্রাধিকার ঠিক করুন।' অ্যাপে এই কথা বলার ভিডিওটি আবার পোস্টও করেছেন কোহলি।

‘দেশ ছেড়ে অন্য কোথাও থাকুন’ কথাটা পছন্দ হয়নি অনেকেরই। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডেরও পছন্দ হয়নি। বিসিসিআই কোহলিকে জানিয়ে দিয়েছে, বড় অন্যায়ই করেছেন তিনি। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিসিসিআইয়ের কোষাধ্যক্ষ অনুরুদ্ধ চৌধুরী কোহলিকে স্বরণ করে দিয়েছেন যে, সমর্থকরা না থাকলে ক্রিকেটারদের এতো এতো বেতন, ম্যাচ ফি দিতে পারত না বোর্ড। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশাল অঙ্কের চুক্তিও করতে পারবেন না কোহলিরা।

অনুরুদ্ধ চৌধুরী বলেন, 'বিরাটের (কোহলি) বোঝা উচিত যে, এই সমর্থকরা যদি অন্য দেশে যায়, তবে তার সাথে ১০০ কোটি রুপির চুক্তি করতে আসবে না পিউমার। বিসিসিআইয়ের আয়ও কমে যাবে, সেই সঙ্গে খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি'ও কমবে। সে চুক্তিটা পড়ে দেখলে বুঝতে পারবে, এই বিবৃতি দিয়ে চুক্তি ভঙ্গ করেছে। এর আগে সে ইল্যান্ডে গিয়ে পিউমার বিজ্ঞাপন করে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে নাইকির চুক্তিরও অমর্যাদা করেছে।'

ভারতীয় হয়ে অন্য দেশের ক্রিকেটারকে ভালো লাগার বিষয়টি একেবারেই স্বাভাবিক মনে করছেন অনুরুদ্ধ চৌধুরী। নিজের উদহরণ দিয়েই বিষয়টি খোলাসা করেছেন তিনি। অনুরুদ্ধ চৌধুরী বলেন, 'আমরা (বিসিসিআই) আমাদের ক্রিকেট সমর্থকদের মূল্য বুঝি এবং তাঁদের মতামতকে সম্মান করি। আমি সুনীল গাভাস্কারের ব্যাটিং দেখতে ভালোবাসতাম, কিন্তু গর্ডন গ্রিনিজ, ডেসমন্ড হেইন্স এবং ভিভ রিচার্ডসের খেলাও ভালোবাসতাম। আমি শচীন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগ, সৌরভ গাঙ্গুলী, ভিভিএস লক্ষ্মণ ও রাহুল দ্রাবিড়ের ব্যাটিংও পছন্দ করতাম, সেই সঙ্গে মার্ক ওয়াহ, ব্রায়ান লারাসহ এমন আরও অনেকের খেলাও ভালোবাসতাম।'

তার সময়ে অনিল কুম্বলে, কপিল দেবরা ছিলেন ভারতের বোলিংয়ের তারকা। কিন্তু কুম্বলে, কপিলদের পাশাপাশি শেন ওয়ার্ন, ইমরান খানদেরও ভালো লাগতো বলে জানিয়েছেন অনুরুদ্ধ। তিনি বলেন, 'অামার কাছে শেন ওয়ার্ন ছিলেন চোখের জন্য সবচেয়ে রোমাঞ্চকর একজন স্পিনার। কিন্তু অনিল কুম্বলে যখন বল করতেন সেই উত্তেজনার তো কোনো তুলনা নেই। ফর্মে থাকা কপিল দেব ছিল চোখের জন্য তৃপ্তিদায়ক, কিন্তু রিচার্ড হ্যাডলি, ইয়ান বোথাম এবং ইমরান খানও ছিলেন তৃপ্তিদায়ক।'

Add comment

Security code
Refresh