আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 51 মিনিট আগে

বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে তিন ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও ফাইনালে উঠেছে ক্রোয়েশিয়া। রোববার স্বপ্নের শিরোপা লড়াইয়েও শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল ক্রোয়েশিয়ানরা। কিন্তু এ যাত্রায় আর রক্ষা হয়নি ক্রোয়াটদের। মস্কোর ফাইনালে ৪-২ গোলে হেরে গেছে সোনালি প্রজন্মের ক্রোয়েশিয়া।

croatia coach zlatko dalic

তীরে এসে তরী ডুবল ক্রোয়েশিয়ার। স্বাভাবিকভাবেই হতাশ হয়েছেন দলটির প্রধান কোচ জ্লাটকো দালিচ। এই হারের ঢাল হিসেবে ক্রোয়াট কোচ কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন রেফারিকে। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন রেফারি পিতানোকে একহাত নিতেও ভুল করেননি দালিচ।

খেলার ১৮ মিনিটে মারিও মান্দজুকিচের আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে ক্রোয়েশিয়া। ১০ মিনিটের ব্যবধানে ইভান পেরিসিচের দুর্দান্ত গোলে দারুণভাবেই ম্যাচে ফিরে আসে ক্রোয়াটরা। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের নায়ক একটু পরই দেখলেন মুদ্রার উল্টো পিঠ।

৩৮ মিনিটে ডি-বক্সে বল হাতে লাগে পেরিসিচের। পেনাল্টির আবেদন জানায় ফ্রান্স। পরে ভিডিও অ্যাসিস্টেন্ট রেফারিংয়ের সাহায্য নিয়ে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন ম্যাচকর্তা পিতানো। সুযোগটা কাজে লাগাতে ভুল করেননি অ্যান্তনি গ্রিজম্যান। ক্রোয়াট গোলরক্ষক ড্যানিয়েল সুবাসিচকে ফাঁকি দিয়ে স্পট কিক থেকে বল জালে জড়ান তিনি (২-১)।

দ্বিতীয় গোল হজমের পরই কোথায় যেন হারিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। বিরতির পর আরো বিধ্বংসীরূপে হাজির হয় ফ্রান্স। ৫৯ ও ৬৫ মিনিটে দুই গোল করেন পল পগবা ও কিলিয়ান এমবাপ্পে (৪-১)। ম্যাচটা এক অর্থে শেষ হয়ে গেছে ওখানেই। ৬৯ মিনিটে মান্দজুকিচের গোলটা ক্রোয়াটদের হারের ব্যবধান কমিয়েছে মাত্র।

ক্রোয়েশিয়া কোচের মতে প্রথমার্ধে রেফারির পেনাল্টি সিদ্ধান্তটাই গড়ে দিয়েছে ম্যাচের ভাগ্য। দালিচের দাবি, পেরিসিচের হ্যান্ডবলটা ইচ্ছেকৃত ছিল না। কিন্তু রেফারির চোখে সেটা মনে হয়নি। ম্যাচ শেষে তাই আর্জেন্টাইন রেফারির ওপর চটেছেন ক্রোয়েশিয়া কোচ। বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের ফাইনালে আপনি এভাবে পেনাল্টি দিতে পারেন না।’

দালিচ আরো বলেছেন, ‘আমরা ভালো খেলছিলাম। কিন্তু পেনাল্টি সিদ্ধান্তটা আমাদের ফাইনাল থেকে ছিটকে দিয়েছে। ম্যাচটা কঠিন করে দিয়েছে। আমরা জিততে চেয়েছিলাম। বিশ্বকাপ জেতার জন্য পরিশ্রম করেছিলাম। কিন্তু একটা সিদ্ধান্তই ম্যাচ থেকে আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে।’

নকআউট পর্বের তিনটি ম্যাচেই ভাগ্যকে পাশে পেয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। শেষ ষোলো এবং কোয়ার্টার ফাইনাল তো ক্রোয়াটরা পার হয়েছিল টাইব্রেকারে। কিন্তু রোববার ফাইনালে দুর্ভাগ্য পিছু নিয়েছিল ক্রোয়াটদের। তা না হলে শুরুতে কেনই বা আত্মঘাতী গোল হজম করতে হবে। কেনই বা পেনাল্টি সিদ্ধান্ত তাদের বিপক্ষে যাবে।

ক্রোয়েশিয়া কোচ মানছেন জিততে হলেও ভাগ্যের ছোঁয়াও লাগে। দালিচ বলেছেন, ‘এই টুর্নামেন্টে আগেও আমরা ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছিলাম। কিন্তু আজ (রোববার) সেটা আমাদের অনুকূলে ছিল না। চার গোলের মধ্যে একটি আত্মঘাতী এবং অন্যটা হজম করেছি পেনাল্টি থেকে।’

তবে দুর্ভাগ্যকে অজুহাত হিসেবে দেখাতে চান না দালিচ। পরাজয় মেনে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। তবে রানার্সআপ হতে পেরেই গর্ববোধ করছেন দালিচ, ‘আমি ফ্রান্সকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। চার গোল হজমের পর আপনি জয়ের আশা করতে পারেন না। এটা ঠিক আমরা কষ্ট পাচ্ছি, এর সঙ্গে নিজেদের গর্বিত মনে করছি।’

Add comment

Security code
Refresh