advertisement
আপনি দেখছেন

আজ সেই বীভৎসময় ৩০ এপ্রিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে আলোচিত সেভেন মার্ডারের ঘটনাটি ২০১৪ সালের এই দিনেই প্রকাশ পায়। সংখ্যার দিক থেকে ভয়ংকর হওয়া ছাড়াও ঘটনাটি দেশের জন্য আরও লজ্জার এই জন্য যে, সাত খুনের এই ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলো দেশের এলিট ফোর্সের হর্তাকর্তারা।

seven murder narayonganj

নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নূর হোসেনের পরিকল্পনায় এই হত্যাযজ্ঞ বাস্তবায়ন করে র‍্যাব-১১-এর সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ। এছাড়া র‍্যাব-১১ এর আরও কয়েকজন এই কাজে জড়িত ছিলেন।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। অপহরণের পর তাদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়া হয় শীতলক্ষ্যা নদীতে।

২৭ এপ্রিল নারায়ঙ্গঞ্জের ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলমকে অপহরণ করা হয়। এই দুষ্কর্মের প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ায় আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিমকেও অপহরণ করা হয়। এরপর ৩০ এপ্রিল বিকালে শীতলক্ষ্যায় ভেসে ওঠে একের পর এক ছয়টি লাশ। এর পরদিন ১ মে আরও একটি লাশ উদ্ধার হয় শীতলক্ষ্যা থেকে।

প্রত্যেকটি লাশের সাথে একটি করে সিমেন্টের ব্যাগ বাঁধা ছিলো। তাতে ছিলো ২৪টি করে ইট। পলিথিন দিয়ে মুখ মুড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি প্রত্যেকটি লাশের হাত-পা ছিলো পেছনে দড়ি দিয়ে বাঁধা। লাশগুলো যাতে শীতলক্ষ্যায় ডুবে যায় তা নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সবার পেট কেটে দেয়া হয়।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম নিখোজ হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় সবাই তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কাউন্সিলর নূর হোসেনকে সন্দেহ করছিলেন। কিন্তু ভয়ে কেউই মুখ খোলেননি। কিন্তু ৩০ এপ্রিল যখন শীতলক্ষ্যার বুক থেকে লাশগুলো উদ্ধার হয় তখন নারায়নগঞ্জের মানুষ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর ছাড়াও অভিযুক্ত আসামিদের স্থাপনায় আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
অপহরণের পরদিনই অর্থাৎ ২৮ এপ্রিল কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান করে মোট ছয় জনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী। ঘটনার মূলহোতা নূর হোসেন বিপদ টের পেয়ে ভারতে পালিয়ে যান। তবে কিছুদিন পরই ভারত থেকে তাকে গ্রেফতার করে দেশে আনা হয়।

দীর্ঘ পরিক্রমার পর এই বছরের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ২৬ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

ঘটনার বিচার হলেও শীতলক্ষ্যা পাড়ের মানুষ এখনও সেই খুনের বীভৎসতা ভুলতে পারেন না। ৩০ এপ্রিল এলে এখনও স্থানীয় মানুষজন সাত খুনের নির্মমতা উপলব্ধি করে শিউরে ওঠেন।