advertisement
আপনি দেখছেন

রাজশাহীতে গতকাল সন্ধ্যায় ৯৫ কিলোমিটার বেগে তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডব বয়ে গেছে। রোববার সন্ধ্যায় রাজশাহীর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে প্রাণহানি ও নৌকাডুবির এ ঘটনা ঘটে।

kalboishakhi jhor

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে গাছ উপড়ে গাছের নিচে চাপা পড়ে এক ব্যক্তি নিহত এবং বড়কুঠি সংলগ্ন পদ্মা নদীতে নৌকা ডুবে চারজন সহ নিখোঁজ হয়েছেন মোট ছয়জন। গোদাগাড়ী উপজেলায় গাছ চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন কৃষক মো. আলম নামে একজন।

ঝড়ের সময় পদ্মা নদীতে নৌকায় ডুবে চরের বাসিন্দা আসাদুল্লাহ (৩২) ও রাসেল (২৩), নগরীর দরগাপাড়ার বাসিন্দা রফিক (৩৫) ও রবিন (২৬) নিখোঁজ হন। একই সময় চরে বেড়াতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে নগরীর শাহ মখদুম জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার তামিম ও আব্দুল আহাদ নামের দুই মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ হয়। তাদের বয়স ১০ বছর।

ঝড়ে অনেক এলাকায় গাছপালা উপড়ে এবং ডাল ভেঙ্গে প্রচুর পরিমাণে আম ঝরে গেছে। এবং ধানের ক্ষেতে পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পুঠিয়া উপজেলার আমচাষী সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড় বয়ে গেছে। গাছের অধিকাংশ আম ঝরে গেছে। ডালপালাও ভেঙ্গে গেছে। অনেক এলাকার কাচা ঘর-বাড়ির চালা উড়ে গেছে।

জানা যায়, রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে রাজশাহীতে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। এসময় রাজশাহী নগরীসহ পুরো এলাকা ধুলোতে অন্ধকার হয়ে যায়।

কিছুক্ষণ ধুলো ঝড় বয়ে যাবার পর শুরু হয় বৃষ্টিসহ ঝড়। ৭টা ৫ মিনিট থেকে শুরু করে সাতটা ১০ মিনিট পর্যন্ত কালবৈশাখী ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ রেকর্ড করা হয় ৯০ থেকে ৯৫ কিলোমিটার। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কালবৈশাখী ঝড় হয়ে যায়। রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ৪৩ মিলিমিটার।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক বছরের ইতিহাসে রাজশাহী অঞ্চলের ওপর দিয়ে এত তীব্র কালবৈশাখী ঝড় হয়নি। এর আগে সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৭৫ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যাবার রেকর্ড রয়েছে। রাজশাহী সদর ছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলার উপর দিয়ে এই কালবৈশাখীর তান্ডব বয়ে যাবার খবর পাওয়া গেছে।'