advertisement
আপনি দেখছেন

বাংলাদেশে প্রতি ত্রিশ মিনিটে একজন শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি), সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি), সেভিং লাইভস ফ্রম ড্রনিং প্রজেক্ট (সলিড) ইন বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ে মিলিত এক গবেষণায় এমন তথ্য মিলেছে।

sinking child

গত দুই বছর ধরেই বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনার ওপর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। গবেষণার তথ্য মতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১৫ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এই সংখ্যাটি শিশু মৃত্যুর ৪৩ শতাংশ। আর প্রতিদিনের হিসেবে পানিতে ডুবে মারা যায় ৪০ জন শিশু। ঘড়ির কাঁটায় হিসাব করলে প্রতি ত্রিশ মিনিটে একজন শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়।

গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে। তাই এই সময় প্রত্যেক অভিভাবকের উচিত সন্তানের প্রতি বাড়তি দৃষ্টি দেয়া।

গবেষণায় দেখা গেছে, ১২ বছরের অধিক এবং ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরাও পানিতে ডুবে মারা যায়। এদের সংখ্যাই ২৫ দশমিক সাত শতাংশ।

হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রির্সাচ (সিআইপিআরবি) বাংলাদেশের পরিচালক (অপারেশন্স) সেলিম মাহমুদ চৌধুরী জানান, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে মোট ১৬ হাজার ৭০৩ জন শিশু মারা গেছে। এ হিসেবে প্রতিদিন মারা গেছে ৪৬ জন শিশু।

মারা যাওয়া শিশুদের বয়স পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এক থেকে চার সয়সী শিশুর সংখ্যা ৭১ দশমিক সাত শতাংশ, পাঁচ থেকে নয় বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ২৮ দশমিক এক শতাংশ, দশ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা তিন দশমিক দুই শতাংশ এবং ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা পাঁচ দশমিক ছয় শতাংশ।

এত সংখ্যাক শিশুর মৃত্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে সময়টায় বাড়ির বড়রা অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকেন অধিকাংশ শিশুরা সে সময়েই খেলতে গিয়ে পানিতে পড়ে যায়। ফলে তাদের উদ্ধার করার জন্য কাউকে পাওয়া যায় না। এ জন্য সচেতনতা জরুরি।