advertisement
আপনি দেখছেন

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর হাসাবপুরের একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে অভিযান চালাচ্ছে আইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানের মধ্যেই আজ সকালে ‘আত্মঘাতি বিস্ফোরণে’ অন্তত ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন ফায়ার সার্ভিসের সদস্য। অন্য পাঁচজন সন্দেহভাজন জঙ্গি।

rajshahi militant raided

গতরাত থেকে বাড়িটি ঘিরে রেখে সকালে হ্যান্ড মাইকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে। কিন্তু আত্মসমর্পণ না করে কয়েকজন একসাথে বেড়িয়ে এসে আত্মঘাতি বিস্ফোরণ ঘটালে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানাচ্ছে পুলিশ। তবে বিস্ফোরণের আগে বাড়িটি থেকে দুই শিশু বেড়িয়ে এলে তাদের উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিবজুর আলম মুন্সি বলেন, ‘জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বাড়িটি ঘিরে ফেলার সময় ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে জঙ্গিরা আত্মঘাতি বিস্ফোরণ ঘটালে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।’

হতাহতের বিষয়ে রাজাশাহীর গোদাগাড়ী সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মো. একরামুল হক বলেন, ‘অভিযানে জঙ্গিদের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আস্তানার ভেতরে একজন ‘সুইসাইড ভেস্ট’ পরে অবস্থান করছেন। অভিযানে পুলিশের দুই সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের একজন সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

পরে সকাল দশটার দিকে আহত ওই ফায়ার সার্ভিসের কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সুত্রে।

এদিকে, অভিযান চালানো বাড়িটিকে স্থানীয়রা ‘আলামিনের বাড়ি’ হিসেবে চিনতো। ধানক্ষেতের মধ্যে ফাঁকা জায়গায় মাস দুই আগে বাঁশ ও টিন দিয়ে ওই বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর সাথে তাদের খুব বেশি মেলামেশা ছিল না বলে জানা গেছে।

পুলিশের ধারনা আত্মঘাতি বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন ওই বাড়ির মালিক সাজ্জাদ হোসেন, তার স্ত্রী বেলী এবং ছেলে আলামিন।

এর আগে এপ্রিলের শেষ ভাগে রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ত্রিমোহনী শিবনগর গ্রামের একটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে চার জনের মৃত্যুর কথা জানা গিয়েছিল। ওই চারজনও আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছিল পুলিশ।