advertisement
আপনি দেখছেন

প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়েই গ্রেফতার করা হয় বনানী ধর্ষণ মামলার প্রধান দুই আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিবকে। সিলেট মহানগরের উপ পুলিশ কমিশনার জেদান আল মুসা (গণমাধ্যম) এই কথা জানিয়েছেন।

safat sadman

জেদান আল মুসা জানান, প্রযুক্তি আর কৌশলকে কাজে লাগিয়ে পুলিশ জানতে পারে যে সাফাত ও সাদমান সিলেটের জালালাবাদ থানার মদিনা মার্কেট এলাকার একটি বাসায় আছেন। তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরই ঢাকা থেকে পুলিশের একটি বিশেষ দল (টেকনিক্যাল) সিলেটে আসে।

ওই টিম প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিশ্চিত হয় যে, সিলেট নগরের শেখঘাট এলাকায় ‘রশীদ ভিলা’য় অবস্থান করছে। এরপরই পুরো বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশ। বাড়ির বাইরেও পুলিশের সতর্ক অবস্থান ছিলো। যাতে অপরাধীরা লাফ দিয়ে পালিয়ে যেতে না পারে। কিছুক্ষণ পর ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার টিল্লাপাড়ার রিজেন্ট পার্ক রিসোর্টে রুম ভাড়া নিতে গিয়েছিল এই অপরাধীরা। কিন্তু ভোটার আইডি কার্ড দিতে না পারায় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে রুম ভাড়া দিতে অস্বীকার করে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট থেকে সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিবকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহীদুল হক জানান, ঢাকা পুলিশ সদর দফতরের বিশেষ একটি টিম ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে।

গত ২৮ মার্চ রাজধানীর বনানীস্থ 'দ্য রেইন ট্রি' হোটেলে সাফাত আহমেদ নামে এক বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে বন্ধুদের প্ররোচনায় ধর্ষণের শিকার হন দুই তরুণী। ঘটনার প্রায় ৪০ দিন পর গত শনিবার সন্ধ্যায় বনানী থানায় মামলা করেন ওই দুই তরুণী। মামলায় আসামী মোট পাঁচ জন।

শাফাত ছাড়াও মামলার অন্য আসামী হলেন, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, শাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী (নাম নেই)।

শাফাতের বাবা দিলদার আহমেদ, তিনি দেশের অন্যতম অলংকার শিল্পপ্রতিষ্ঠান আপন জুয়েলার্সের মালিক। শাফাত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। সেখান থেকে ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় স্নাতক পাস করেন।