advertisement
আপনি দেখছেন

ধর্মীয় উসকানি ও বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমান গুলশান থানা পুলিশকে এ নির্দেশ দেন। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য ২৪ এপ্রিল দিন ধার্য করেছে আদালত।

khaleda in bsmmu

অপরদিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমদ তালুকদার মামলায় জামিন আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেছে। এ সময় আদালতে মামলার বাদী এবি সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ২০ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদনের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছিল আদালত। কিন্তু ওই দিন প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় ১৪ মার্চ দিন ধার্য করে আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে শুভ বিজয়া উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের এক পর্যায়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরে আছে। আসলে দলটি ধর্মহীনতায় বিশ্বাসী।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সব ধরনের মানুষের ওপর আঘাত করে। আর লোক দেখানো ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দখল করে নেয়। ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরা এ জবর-দখলকারী সরকারের হাতে কোনো ধর্মের মানুষই নিরাপদ নয়।’

এ বক্তব্যের জেরে দণ্ডবিধির ১৫৩ (ক) ও ২৯৫ (ক) ধারায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর হাকিম মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর নালিশি মামলাটি করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে একই বছরের ২১ অক্টোবর আদালত মামলাটি শাহবাগ থানার পরিদর্শক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

২০১৮ সালের ৩০ জুন দুই মামলায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস।

উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া দুদকের দায়ের করা দুই মামলায় ১০ ও ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী আছেন।