advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 15 মিনিট আগে

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চার ধাপে তিন পদেই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় ৩০টিতে ভোট হচ্ছে না। এ সব উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা ভোটে নির্বাচিত হচ্ছেন।

election commission of bangladesh

এরই মধ্যে চার ধাপে তফসিল ঘোষিত ৪৬০টির উপজেলার মধ্যে ১১০টিতে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নৌকার প্রার্থীরা নির্বাচিত হচ্ছেন। ফলে চেয়ারম্যান পদে ২৪ শতাংশ উপজেলায় ভোট হচ্ছে না।

জানা গেছে, প্রথম ধাপে ৮৭টি উপজেলায় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও গত ১০ মার্চ ৭৮টিতে ভোট হয়েছে। বাকি ৯টি উপজেলার মধ্যে ৬টির নির্বাচন স্থগিত আর তিনটিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভোট হয়নি। এছাড়া বাকি তিন ধাপে ৩৭৩টি উপজেলায় নির্বাচন হবার কথা থাকলেও এর মধ্যে ২৭টিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় ভোট হচ্ছে না। ভোট না হওয়া এ সব উপজেলায় তিন পদেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নির্বাচিত হচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে ৭৮ উপজেলায় ১০ মার্চ ভোট হয়। এর মধ্যে ১৫ জন চেয়ারম্যান, ছয় জন ভাইস চেয়ারম্যান ও সাত জন নারী ভাইস চেয়ারম্যান বিনা ভোটে নির্বাচিত হন। এ ধাপে তিন পদেই প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় জামালপুরের মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলা এবং নাটোরের সদর উপজেলায় ভোট হয়নি। এছাড়া নির্বাচন স্থগিত থাকা ছয় উপজেলায়ও চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী রয়েছেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, পরবর্তী তিন ধাপে ৩৭৩ উপজেলায় নির্বাচন হবে। এর মধ্যে ২৭টি উপজেলায় তিন পদেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিপরীতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নেই। ফলে এ সব উপজেলায় ভোট হচ্ছে না। এছাড়া এ তিন ধাপে ৮০টি উপজেলায় চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় নির্বাচনের প্রয়োজন হচ্ছে না। এ সব উপজেলায় শুধু ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট হবে।

যে ২৭ উপজেলায় ভোট হচ্ছে না, তা হলো ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও সাভার, নরসিংদীর পলাশ, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, মাদারীপুরের শিবচর, ফরিদপুর সদর, ময়মনসিংহের গফরগাঁও, নওগাঁ সদর, পাবনা সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, কুমিল্লার লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রাম ও দেবীদ্বার, নোয়াখালীর হাতিয়া ও কোম্পানীগঞ্জ, ফেনীর পরশুরাম, চট্টগ্রামের আনোয়ারা, রাউজান ও মিরসরাই, বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া, ভোলা সদর, মনপুরা ও চরফ্যাসন, যশোরের শার্শা।

এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মনোনয়ন বাতিল হওয়া এক নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী রিটের প্রেক্ষিতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

এবার চেয়ারম্যান পদে প্রথম ধাপে ১৫ জন, দ্বিতীয় ধাপে ২৫ জন, তৃতীয় ধাপে ৩০ জন এবং চতুর্থ ধাপে ৪০ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন। তবে পঞ্চম ধাপের উপজেলা নির্বাচনের তফসিল রোজার পরে জুনের শেষ দিকে হতে পারে। ফলে বিনা ভোটে চেয়ারম্যানের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ইসি কর্মকর্তারা বলছে, স্থানীয় সরকারের এই পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি দেশের অন্যতম প্রধান বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ফলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিপরীতে শক্তিশালী প্রার্থী না থাকায় নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে না। তাছাড়া অন্য দল ও স্বতন্ত্র হিসেবে যে সব প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন, তারাও নানা কারণে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। এ সব কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। 

তফসিল অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১৮ মার্চ ১২৪ উপজেলায়, তৃতীয় ধাপে আগামী ২৪ মার্চ ১২৭টি উপজেলায় ও চতুর্থ ধাপে আগামী ৩১ মার্চ ১২২টি উপজেলায় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

sheikh mujib 2020