আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 52 মিনিট আগে

রাজধানী ঢাকায় সু-প্রভাত পরিবহনের বাস চলবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর সরণিতে সু-প্রভাত পরিবহনের একটি বাসের চাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহত হন। এর জেরে সকাল থেকে বিক্ষোভ করে আসছেন শতশত শিক্ষার্থী। বিক্ষুব্ধ এই শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত হয়ে আন্দোলন তুলে নেওয়ার আহ্বানের পর ওই কথা বলেন আতিকুল ইসলাম। সু-প্রভাত পরিবহনের মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

meyor atiqul islam bus

আতিকুল বলেন, ‘ঘাতক সু-প্রভাত পরিবহনের রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিল করা হবে। রাজধানীতে সু-প্রভাত বাস আর চলবে না। ফিটনেস ছাড়া বাস ও লাইসেন্স ছাড়া চালকের গাড়িসহ রাস্তায় নামানোর জন্য সু-প্রভাত পরিবহনের মালিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্তাও নেওয়া হবে।’

আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের আট দফা দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘ছাত্ররা যে দাবীগুলো করছে, তা খুবই যৌক্তিক। দাবিগুলো যেভাবেই হোক আমাদের দেখতে হবে। প্রতিটি দাবি নিয়ে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। ছাত্রদের সকল দাবি আমি নিজে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করব।’

গুলশান থানার এসআই জাহাঙ্গীর জানান, সকাল ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে ‘সুপ্রভাত পরিবহনের’ একটি বাস আবরারকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর সাথে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইনডেপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।

এদিকে কয়েক ঘণ্টা ধরে রাস্তা অবরোধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষ। কুঁড়িল বিশ্বরোড থেকে ভাটারা পর্যন্ত সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঘাতক বাস চালকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। যাকে দুর্ঘটনার পরপরই আটক করে পুলিশ।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলামের নিকট বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বাস চালকের সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি ওই এলাকায় একটি পদচারী সেতু নির্মাণের দাবি জানান। মেয়র তাদের দাবি মানার আশ্বাস দেন।

এদিকে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা আটক বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা আগুন নেভায়।

আন্দোলনরতরা যে আট দফা দাবি জানিয়েছে সেগুলো হচ্ছে- পরিবহন সেক্টরকে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত করা, প্রতিমাসে চালকদের লাইসেন্সসহ সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেক করা, ফিটনেসবিহীন বাস ও লাইসেন্সবিহীন চালককে দ্রুততম সময়ে অপসারণ করা, ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সকল স্থানে আন্ডারপাস, স্পিড ব্রেকার এবং ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ, সড়ক হত্যার সাথে জড়িত সকলকে সর্বোচ্চ আইনের আওতায় আনতে চলমান আইনের পরিবর্তন, দায়িত্ব অবহেলাকারী প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশকে স্থায়ী অপসারণ করে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চলাচল বন্ধ করে নির্দিষ্ট স্থানে বাসস্টপেজ এবং যাত্রী ছাউনির ব্যবস্থা গ্রহণ ও শিক্ষার্থীদের যানবাহনে চলাচলে হাফ পাস অথবা আলাদা বাস সার্ভিস চালু করা।

সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দাবি আদায়ের ব্যাপারে নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।