advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 14 মিনিট আগে

রাজধানী ঢাকা, কক্সবাজার ও গাজীপুরে বুধবার রাতে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৬ ব্যক্তির নিহতের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিহতদের দুজনকে মাদক ব্যবসায়ী, দুজনকে জলদস্যু, একজন হত্যা মামলার পলাতক আসামি ও একজনকে ছিনতাইকারী বলছে বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ। এদের মধ্যে কক্সবাজারে চারজন, ঢাকা ও গাজীপুরে একজন করে নিহত হয়।

gunfight new

কক্সবাজারের টেকনাফের খারাংখালি ও পেকুয়ায় বুধবার ভোর রাতে একই সময়ে পৃথক দুটি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৪ ব্যক্তির নিহতের কথা জানায় বিজিবি ও র‌্যাব। টেকনাফের খারাংখালি এলাকায় নিহত দুইজনকে মাদক ব্যবসায়ী দাবি করে বিজিবি বলছে, তারা রোহিঙ্গা নাগরিক। তবে তাৎক্ষণিক তাদের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি।

অপরদিকে পেকুয়ার মগনামা উপকুল এলাকায় নিহত দুই ব্যক্তিকে জলদস্যু দাবি করা হলেও তাদেরও নাম ও বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত করেনি র‌্যাব। বিজিবি-২ কমান্ডিং অফিসার শরিফুল ইসলাম জমাদ্দারের ভাষ্য, বিজিবির একটি টহল দল সীমান্তে টহল দিচ্ছিল।

এ সময় ভোর সাড়ে ৪টায় একদল রোহিঙ্গা খারাংখালি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা বিজিবি সদস্যদের গুলি ছুড়ে। পাল্টা গুলি ছুড়ে বিজিবি। পরে দুজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়।

‘ঘটনাস্থল থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করার কথাও জানিয়ে বিজিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, নিহতদের মরদেহ টেকনাফ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে র‌্যাব-৭ এর কোম্পানি কমান্ডার মেহেদি হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলার পেকুয়া উপজেলার মগনামা উপকুল এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বুধবার ভোর সাড়ে ৪টায় কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই জলদস্যু নিহত হয়েছেন। তবে, নিহতদের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তার ভাষ্য, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে জলদস্যুদের একটি দল কোনো নৌযানে ডাকাতির উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। র‌্যাব ঘটনাস্থলে অভিযানে গেলে তারা গুলি ছুড়ে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়ে। গুলি বিনিময়ের পর দুই জলদস্যুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

‘ঘটনাস্থল থেকে ৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৬টি বুলেট উদ্ধারের কথা জানিয়ে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, নিহতদের মরদেহ পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।

এছাড়া রাজধানীর পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যা মামলার এক পলাতক আসামির নিহতের কথা জানিয়েছে র‌্যাব। নিহত শফিকুলকে (৩০) হত্যা মামলাসহ প্রায় ডজন খানেক মামলার আসামি বলছে র‌্যাব। সে নরসিংদী জেলার বাসিন্দা।

র‌্যাব-১১ কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল কাজী শমসের উদ্দিনের ভাষ্য, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শফিকুলের অবস্থান জানার পর মঙ্গলবার রাত ১১টা ৪০মিনিটে ঘটনাস্থলের একটি বহুতল ভবনে অভিযান চালানো হয়। উপস্থিতি টের পেয়ে শফিকুল ও তার দুই সহযোগী গুলি র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। আত্মরক্ষায় র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। পরে গুলিবিদ্ধ শফিকুলকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শফিকুলের দুই সহযোগী ফারুক ও প্রদীপকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুটি পিস্তল, অসংখ্য বুলেট এবং একটি শটগান উদ্ধার করা হয়েছে। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক র‌্যাব সদস্যের আহত হবার কথাও জানান তিনি।

এদিকে গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদ নগরের বাশপট্রিতে বুধবার ভোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক যুবকের নিহতের কথা জানায় পুলিশ। নিহত কাউসার মিয়া টঙ্গীর এরশাদ নগদ এলাকার ৬ নং ব্লকের মিন্টু মিয়ার ছেলে।

গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার আরিফুর রহমানের ভাষ্য, বুধবার ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গী পূর্ব থানা এরশাদ নগরের বাশপট্টিতে পুলিশ অভিযান চালায়। এসময় অস্ত্রধারী ছিনতাইকারীরা কাউসারকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে।

‘এতে কাওসার গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়,’ বলেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। 

sheikh mujib 2020