advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 01 মিনিট আগে

গত দুই মাস ধরে একজন অপরাধীর সাজা ভোগ করছেন আরেকজন নিরপরাধ ব্যক্তি। তবে এটা পুরোটাই স্বেচ্ছায় কারাবরণ! অবশ্য এর পেছনে রয়েছে তিন লাখ টাকার লোভ। তিন লাখ টাকার বিনিময়ে বনের জমি দখলের মামলায় ওফাজ উদ্দিনের দুই বছরের সাজা ভোগ করছেন জাহাঙ্গীর আলম (৩০)। তারা দুজনেই গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাসিন্দা।

ofaj jahangirওফাজ ও জাহাঙ্গীর

অভিযোগ পাওয়া গেছে, ওফাজ উদ্দিন ৩ লাখ টাকার সঙ্গে জাহাঙ্গীরকে দ্রুত জামিন করিয়ে দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফলে সমঝোতা অনুযায়ী ওফাজের পরিবর্তে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন জাহাঙ্গীর। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে বন্দী রয়েছেন।

কালিয়াকৈরের খোলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম পেশায় গাড়িচালক। এক সময় প্রাইভেটকার চালালেও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় চাকরি হারান তিনি। এরপর অর্থনৈতিক চাপে পড়েন তিনি। ঠিক এ সময়ই জাহাঙ্গীরের বাড়িতে তিন লাখ টাকার প্রস্তাব নিয়ে হাজির হন ওফাজ উদ্দিনসহ কয়েকজন। তবে এর বিনিময়ে স্বেচ্ছায় দুই বছর কারাভোগ করতে হবে! তার সঙ্গে অবশ্য দ্রুত জামিন করিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

এ ঘটনার সন্ধান মেলে রোববার সকালে কারাগারে ওফাজ উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে। ওফাজের সাক্ষাৎ চাওয়া হলেও খানিক পরে আসেন জাহাঙ্গীর নামের এক যুবক। তার কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি কিছুই বলতে রাজি হননি। পরে অবশ্য পুরো ঘটনা খুলে বলেন তিনি।

জাহাঙ্গীর জানান, একটি মামলায় ওফাজ উদ্দিনের জেল হয়। এরপর একদিন তিনিসহ কয়েকজন এসে আমাকে ডেকে নেন। এ সময় তারা বলেন, পলাতক থাকায় বিচারক আসামিকে চেনেন না। তিন লাখ টাকার বিনিময়ে ওফাজের পরিবর্তে আমাকে আদালতে পাঠানো হয়। কথা ছিল, আত্মসমর্পণের পর জামিন দিলে তিনি বাড়ি ফিরে যাবেন। আর কারাগারে পাঠালে দ্রুত জামিন করানোর ব্যবস্থা করা হবে।

সে অনুযায়ী গত ২৬ জানুয়ারি ওফাজ হয়ে জাহাঙ্গীর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে জামিন না দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই থেকে জেলে আছেন তিনি।

এ বিষয়ে বন বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ওফাজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে কালিয়াকৈরের বিশ্বাসপাড়ায় বাস করেছেন। তিনি ওই এলাকায় বন বিভাগের জমি দখল করে নিজে ঘর তুলেছেন। এছাড়া বনের জমি অন্যদের কাছে বিক্রিও করেছেন। এ ঘটনায় ওফাজের বিরুদ্ধে বন বিভাগ ২০০৬ সালে মামলা করলে ২০১৮ সালের ৭ জুলাই জেলা বন আদালতে তার দুই বছরের কারাদণ্ড হয়। তবে এ সময় আসামি পলাতক ছিলেন।

তবে এ ব্যাপারে জাহাঙ্গীরের মা জাহানারা বেগম কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, ‘দুই মাস ছেলেকে দেখছি না। নানাজন নানা কথা বলে। শুনেছি, ছেলে নাকি জেলখানায় আছে। কিন্তু কেন সে জেলে, তা জানি না।’

এ ব্যাপারে ওফাজ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ছেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, বাবা জেলখানায় নেই, তিনি পলাতক আছেন। কিন্তু জাহাঙ্গীরের জেল খাটার বিষয়ে কিছুই জানি না।’

এ বিষয়ে গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘কেউ না বললে আদালতের পক্ষে আসামি চেনা সম্ভব নয়। এই সুযোগটিই নিয়েছেন ওফাজ। তিনি সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরও আদালতের সঙ্গে এমন প্রতারণা করে বড় অপরাধ করেছে।’

কিন্তু জাহাঙ্গীরের কী হবে? এ ব্যাপারে গাজীপুরের বন মামলার আইনজীবী রেজাউল করিম বলেন, ‘জাহাঙ্গীরের আইডি কার্ড নিয়ে গাজীপুর আদালতে আপিল করতে হবে। আদালত বিষয়টি যাচাই–বাছাই করে ভুল আসামির প্রমাণ পেলে তাকে মুক্তি দেয়া হবে।’

sheikh mujib 2020