আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 52 মিনিট আগে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা দিতে এসে ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হয়েছেন ওই বিভাগেরই সাবেক শিক্ষার্থী এমদাদুল হক। ওই মারধরের পর তিনি আর পরীক্ষা দিতে পারেননি। এই ঘটনার পর এমদাদুল হক দাবী করেছেন, তার শিক্ষক হওয়া ঠেকাতেই ছাত্রলীগ তাকে পরীক্ষা দিতে দেয়নি।

chittagong university making safety wall

ঘটনার বিচার চাইতে আদালতে মামলা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ শিক্ষার্থী। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এমদাদুল হক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন। স্নাতক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করায় ২০১৫ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পান।

এমদাদুল জানান, ২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক পদের নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষা দেয়ার কথা জানানো হয়। গত ২৭ মার্চ সেই মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো।

নির্ধারিত দিনে মৌখিক পরীক্ষা দিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গেলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার পথরোধ করে। তাকে পরীক্ষা না দিয়েই ফেরত যেতে বলে। কিন্তু তিনি রাজি না হলে সেখানেই তাকে মারধর করে এবং সাথে থাকা দামি জিনিস ও টাকা ছিনিয়ে নেয়।

এরপর তাকে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে নিয়ে গিয়ে সেখানে বেধড়ক পেটানো হয়। তারপর তাকে শিবির আখ্যা দিয়ে হাটহাজারী থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনো সম্পৃক্ততা না পেয়ে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

এই ঘটনায় এমদাদুল মামলা করতে চাইলে হাটহাজারী থানা মামলা নিতে অস্বীকার করে। পরে গতকাল রোববার (৩১ মার্চ) এমদাদুল চট্টগ্রামের মুখ্য বিচারিক হাকিম কামরুন্নাহার রুমীর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন তিনি।

মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের আনোয়ার হোসেন, একই বিভাগের আসিফ মাহমুদ শুভ, মোকসেদ আলী ওরফে মীলু প্রামাণিক, একই বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের জাহিদুল হাসান, রফিকুল ইসলাম, একই বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের আসির উদ্দিন ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শরিফ উদ্দিনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১৬ মে’র মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।