advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 32 মিনিট আগে

রাজধানীতে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানোর পর তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীবের মৃত্যুর ঘটনায় এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের বিষয়ে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানির জন্য আগামী বুধবার (১০ এপ্রিল) দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। রিটকারী আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ দিন ধার্য করে আদেশ দেন।

ritu raj of titumir collegeতিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব

আদালতে রিটকারী আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, রাজীব মারা যাওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু এখনও তার পরিবার কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। যদি এতিম এই দুই ভাই ক্ষতিপূরণের টাকা পায় তাহলে হয়তো তাদের কাজে লাগবে। রাজীবের এতিম দুই ভাই এতিমখানায় অসহায় জীবনযাপন করছেন। এই অবস্থায় ক্ষতিপূরণের রুলটির শুনানি হওয়া দরকার।

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে জারি করা এই রুলের ওপর শুনানির মাধ্যমে উচ্চ আদালত থেকে যে আদেশটা আসবে তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তখন আদালত রুলটি শুনানির জন্য আগামী বুধবার দিন ধার্য করেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীবের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত কমিটি হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। প্রতিবেদনে চালকদের ট্রিপ ভিত্তিক গণপরিবহন চালানোর বিষয়টি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া, মাসিক ভিত্তিতে বেতন দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কমিটি ১৮ দফা সুপারিশ পেশ করেছে।

প্রতিবেদন প্রসঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ‘বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের মাঝে পড়ে কিভাবে রাজিব হাত হারিয়েছেন সেই বিষয়টি এতে তুলে ধরা হয়েছে। এই দুর্ঘটনার জন্য কে দায়ী তা চিহ্নিত করা হয়েছে।’

প্রতিবেদনে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের ওই চালকদের ভারি যানবাহন চালানোর লাইসেন্স ছিল না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার জন্য স্বজন পরিবহনের চালককে দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া রাজিবের মৃত্যুর জন্য শমরিতা হাসপাতালের অবহেলাকে দায়ী করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারান ছাত্র রাজীব। দুই বাসের চাপায় তার ডান হাত কনুইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই তাকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নেয়া হয়।

পরদিন চার এপ্রিল রাজীবের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

তবে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজীবের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। ১৩ দিন চিকিৎসার পর ১৬ এপ্রিল মধ্যরাতে সেখানেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন রাজীব।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামের রাজীব তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় মা এবং অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারান। ঢাকার মতিঝিলে খালার বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন স্নাতকে। কখনও টিউশনি করে, কখনও বা পার্টটাইম কাজ করে নিজে পড়াশোনা করেছেন এবং দুই ভাইকেও বানিয়েছেন কোরআনে হাফেজ।

sheikh mujib 2020