advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 10 মিনিট আগে

জাতীয় পার্টির (জাপা) কো-চেয়ারম্যান পদে আবারও জিএম কাদেরকে পুনঃবহাল করার আশ্বাস দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। এই ইস্যুতে জাপার রংপুর বিভাগের আট জেলার নেতারা 'বিদ্রোহ' করায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন চেয়ারম্যান।

gm kader japa

জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে জাপার কো-চেয়ারম্যান পদে জিএম কাদেরকে পুনঃবহাল করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন এরশাদ।

রসিক মেয়র বলেন, স্যার (এরশাদ) আমাকে ডেকে এনে বলেছেন, খুব দ্রুত জিএম কাদেরকে তার পদে নিয়ে আসা হবে। তোমাদের দাবির সাথে আমি একমত। এ নিয়ে কোনো আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। দু-এক দিনের মধ্যে তাকে আগের পদে পুনঃবহাল করা হবে।

এই ঘটনায় ম্যাডামও (রওশন এরশাদ) কথা বলেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ম্যাডাম মাথা গরম করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, উনি (এরশাদ) অসুস্থ, চাপ দিও না।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৭ মার্চ রংপুরে জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন দলের নেতাকর্মীরা। ওই সংবাদ সম্মেলনে আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে জি এম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান পদে পুনঃবহাল করা না হলে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে গণঅব্যাহতি নেয়ার হুমকি দেন রসিক মেয়র। একইসাথে রংপুর বিভাগে দলের সব কার্যক্রম প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়া হয়।

এদিকে জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব থেকে জি এম কাদেরকে আকস্মিক সরিয়ে দেয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। দেশের প্রথম সারির দৈনিক প্রথম আলো এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপিয়েছে।

সেটিতে তারা লিখেছে, দুটি সামাজিক অনুষ্ঠানে জি এম কাদেরের যোগদানকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরের জ্যেষ্ঠ নেতাদের একাংশ সক্রিয় হয়ে উঠে। এরপর সরকারি মহলের সায় নিয়ে এরশাদকে দিয়েই কো-চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা পদ থেকে জি এম কাদেরকে সরিয়ে দেয় সেই অংশটি।

যে দুটি অনুষ্ঠানে জি এম কাদেরের যোগদানকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, তার একটিতে বিএনপির মহাসচিব এবং এবার মন্ত্রিত্ব না পাওয়া আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের একাধিক নেতাও ছিলেন। সেই বৈঠকটিকে সরকারি মহলে 'ষড়যন্ত্রের বৈঠক' বলে উপস্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ওই বৈঠকটি গুলশানে এক বিএনপির নেতার বাসায় অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। সেটিতে মির্জা ফখরুল ছাড়াও ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ও যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারে এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

অন্য বৈঠকটি সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার উদ্যোগে আয়োজিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশ সফরকারী চীনের একজন মন্ত্রী, মির্জা ফখরুল, জি এম কাদের, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাসহ বামপন্থী অনেকেই অংশ নেন। এই বৈঠকে মির্জা ফখরুল ও জি এম কাদের পাশাপাশি চেয়ারে বসেন।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় পার্টির একটি অংশ বিএনপির মহাসচিবের সঙ্গে জি এম কাদেরের বসা ও কথাবার্তাকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে সরকারি মহলে উপস্থাপন করে। আর এক্ষেত্রে আগের মতোই এরশাদপত্নী রওশনকে সামনে রেখে কার্যটি হাসিল করেন তারা।

মূলত এরপরই গত ২১ মার্চ রাতে জি এম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেন এরশাদ।

ধারণা করা হচ্ছে, রসিক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও রংপুর বিভাগের নেতাদের কঠোর অবস্থানের কারণে জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে করা এই 'ষড়যন্ত্র' ব্যর্থ হয়ে যাবে।

sheikh mujib 2020