আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 52 মিনিট আগে

ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে দগ্ধ সেই মাদ্রাসাছাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার চিকিৎসার জন্য সেখানকার একটি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

feni madrasa student

সোমবার শেষ বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া গুরুতর আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যান। সেখানে লাইফ সাপোর্টে ওই শিক্ষার্থীকে দেখার পর বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেনকে সঙ্গে নিয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন বিপ্লব বড়ুয়া।

এ সময় সামন্ত লাল সেন বলেন, 'আহত এই শিক্ষার্থীকে যেন সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয় সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি নিয়মিত তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর রাখছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পর আমি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার কাগজপত্র পাঠিয়েছি। তারা বললেই আমরা দ্রুত পাঠাবো।'

সাধারণত এমন বেশি দগ্ধ রোগীকে সিঙ্গাপুরের কোনো হাসপাতাল নিতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন সামন্ত লাল। এ সময় বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে দেখতে এসেছি। তাকে সিঙ্গাপুর পাঠানোসহ সকল খরচ বহন করবে সরকার।' এই ঘটনায় অপরাধী সকলের বিচার হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

এদিকে সোমবার দুপুরে ফেনীর সোনাগাজী থানায় অজ্ঞাতপরিচয় চারজনকে আসামি করে মামলা করেন ওই ছাত্রীর ভাই। মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অজ্ঞাত পরিচয় চার আসামি ও তাদের সঙ্গীরা ভিকটিম ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে হত্যার উদ্দেশ্যে আগুন দিয়েছে। মামলায় মুখোশধারী চারজনসহ তাদের সহযোগীদের আসামি করা হয়েছে।

এদিকে মাদ্রাসাছাত্রীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় এ পর্যন্ত আটককৃতরা হলেন- মোস্তফা কামাল, আরিফ, জসীম, নুরুল আমিন, আশরাফ, সাইফুল ও আলাউদ্দিন। তারা সকলেই পুলিশ হেফাজতে আছেন। তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান ওই শিক্ষার্থী। সেখানেই তাকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর থেকে শিক্ষার্থীর পরিবার দাবি করছে, পরীক্ষার হল থেকে বের হওয়ার পর বোরখা পরা চারজন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেয়ার চাপ দেয়। পরে মামলা তুলতে ওই শিক্ষার্থী অস্বীকৃতি জানালে তারা আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। এর আগে গত ২৭ মার্চ যৌন হয়রানির অভিযোগে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে আটক করে পুলিশ। মামলাটি করেছিল শিক্ষার্থীর মা।