আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 29 মিনিট আগে

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পোশাক লুঙ্গির গ্রহণযোগ্যতা সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে এবং ‘লুঙ্গি দিবস’ ঘোষণার দাবি জানানোর লক্ষ্যে লুঙ্গি মহফেল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে এ মহফেল করেন।

du lungi mahfel home

এদিন লুঙ্গি পরে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্ট প্রদক্ষিণ ও মিছিল করেন। এ সময় লুঙ্গির সঙ্গে কেউ পাঞ্জাবি আবার কেউ টি-শার্ট বা অন্য পোশাক পরেন। এ সময় কারো পায়ে স্যান্ডেল, আবার কারো পায়ে জুতা ছিল।

অবশ্য লুঙ্গির বাইরে অন্য পোশাকের ক্ষেত্রে কোনো বিধি-নিষেধ বা ড্রেস কোড ছিল না। এ জন্য অংশগ্রহণকারীদের সবার মূল পোশাক ছিল লুঙ্গি।

du lungi mahfel

অনেকে এদিন লুঙ্গি পরে ক্লাসও করেছেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসিতে) এসে জড়ো হন এবং নানা আয়োজন করে আড্ডা দেন।

আয়োজকদের একজন সাংবাদিকদের জানান, অফিস ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানসহ সব জায়গায় আরামপ্রিয় বাঙালি পুরুষের ঐতিহ্যবাহী পোশাক লুঙ্গিকে গ্রহণযোগ্য করতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা মিলিতভাবে এই মহফেলের আয়োজন করেছেন।

আরেক জন বলেন, লুঙ্গি বাঙালির একটি ঐতিহ্যবাহী পোশাক। এটি আমাদের সংস্কৃতির অংশ। কিন্তু মনে করা হয় যে, লুঙ্গি পরিধান করে শুধু গরিবেরা। এটি পরিধান করে বাইরে যাওয়া যায় না। তাই এই আয়োজন করা হয়।

অবশ্য বিষয়টি নিয়ে আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চলে। এ ব্যাপারে ফেসবুকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে এক পোস্টে বলা হয়েছে-

‘লুঙ্গি পরে ক্লাস করবার ইচ্ছা ছিল অনেক দিনের। হুট করে গত ২ এপ্রিল আমরা তিন বন্ধু ইচ্ছাটা পূরণ করে ফেলি। তিনটা ক্লাসও করেছি লুঙ্গি পরেই।

কিছু শিক্ষক সাধুবাদ জানিয়েছেন। যিনি বা যারা জানাননি, তারাও কথার শেষে উপসংহার টেনেছেন ‘ব্যক্তি স্বাধীনতা’কে শ্রদ্ধা জানিয়ে।

শুধু ক্লাস নয়, লুঙ্গি পরে বুক ফুলিয়ে ক্যাম্পাসেও ঘুরে বেরিয়েছি। আড়চোখে সবার প্রতিক্রিয়া দেখছিলাম, ভালো-মন্দ বুঝতে পারছিলাম না।

কিন্তু এই ‘আকাম’এর ভিডিটাও যখন "অপরাজেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়" গ্রুপে দিলাম, দেখলাম, সবাই দারুণভাবে সেটিকে গ্রহণ করেছেন। উৎসাহী হয়েছেন লুঙ্গি পরে ক্যাম্পাসে আসার ব্যাপারে।

তার পরই আজ বুধবার এই আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।