advertisement
আপনি দেখছেন

যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে বেশ কঠোর আইন ও সামাজিক নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এর উল্টোটা ঘটে বরের বেলায়। যে কোনো বিয়েতেই কনের বাড়ি আসার পর থেকে হাস্যরসের অজুহাতে পদে পদে নাজেহাল করা হয় বরকে। আর এই প্রত্যেকটা 'অজুহাত' শেষ পর্যন্ত নগদ টাকায় গিয়ে ঠেকে।

weeding gate

সাধারণত একজন বর কনের বাড়িতে প্রবেশের সময়ই প্রথম বাধার সম্মুখীন হন। নগদ টাকা ছাড়া বরকে কনের বাড়ি প্রবেশে বাধা দেয় কনেরই ছোট-ভাইবোনেরা।

এরপর শরবত খাওয়ানো, হাত ধোয়ানো, বিশেষ খাওয়া খাওয়ানো, জুতা লুকানো ইত্যাদির নাম করে দফায় দফায় বরের পকেট খসানো হয়। লোক লজ্জায় কিছু বলতে না পারলেও শ্যালক-শ্যালিকাদের এসব আবদার মেটাতে গিয়ে একেবারে পকেট ফাঁকা হন একজন যুবক।

কনের বাড়ি থেকে যৌতুক নেয়ার বিপক্ষে সর্বসম্মত আইন থাকলেও বরের কাছ থেকে এমন 'চাদাবাজি'র বিরুদ্ধে তেমন কোনো সামাজিক পদক্ষেপ নেই বললেই চলে।

এবার এইসব প্রথার বিরুদ্ধে একাই প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের এক যুবক। ১০ এপ্রিল স্থানীয় সামাদ প্লাজা কমিউনিটি সেন্টারে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ছিলো। ওই বিয়েতে বর যখন হাজির হন তখন বর্তমান প্রথা অনুযায়ী 'সালামী'র জন্য সবাই তাকে ঘিরে ধরে।

এমন সময় বরপক্ষ এ রীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন বক্তব্য সম্বলিত কিছু প্ল্যাকার্ড তুলে ধরে। এসব প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিলো- 'আমার বউকে আমি নেব, গেইটে কেন টাকা দিব', 'গেইট ধরার নামে চাঁদাবাজি বন্ধ কর' 'বর কি এটিএম মেশিন?' ইত্যাদি শ্লোগান।

প্রথমে এসব প্ল্যাকার্ড দেখে কনেপক্ষ হতভম্ব হয়ে গেলেও পরে এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানান সবাই। প্ল্যাকার্ডের শ্লোগানগুলো মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত পরিবারের যুবকদের অধিকারের কথাই তুলে ধরে।