আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 38 মিনিট আগে

পহেলা বৈশাখে ইলিশ-পান্থা খাওয়ার একটা রেওয়াজ রয়েছে দেশে। যদিও বিগত কয়েক বছরের ইলিশের ওপর চাপ কমানো জন্য অনেকেই নানাভাবে ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাচ্ছেন। তারপরও দেশের অনেকেই পান্তা-ইলিশ খাওয়ার রেওয়াজে গা ভাসাবেন এটিই স্বাভাবিক। বাঙালির এই চিরন্তন আবেগের সুযোগ নিয়ে পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশের ইচ্ছেমতো গলাকাটা দাম হাঁকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

hilsha barishal

পহেলা বৈশাখের আগের দিন বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের ইলিশ মোকামে শনিবার সকালের দিকে দুই কেজি সাইজের চারটি ইলিশ বিক্রি হয় ২৫ হাজার টাকায়। এতো দামে ইলিশ বিক্রির কথা এই বছর আর শোনা যায়নি। দিনব্যাপী পাল্লা দিয়ে চড়া দামে দামে বিক্রি হয়েছে বিভিন্ন সাইজের ইলিশ। ব্যবসায়ীরা বলছে, বিগত ছয় মাসের মধ্যে শুক্র এবং শনিবার এই মার্কেটে সবচেয়ে বেশি দামে ইলিশ বিক্রি হয়েছে। তবে স্থানীয় ক্রেতারা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, এই বাজারে সোয়া কেজি থেকে দেড় কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কেজি ইলিশের পাইকারি দাম ৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে দুই থেকে আড়াই কেজি সাইজের বড় ইলিশগুলো প্রতি হালি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ইলিশ মোকামের একাধিক আড়তদার জানান, বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশের ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও সারাদেশে এই বরিশাল থেকে ইলিশ যায়। বর্তমানে বাজারে ইলিশ অনেক কম। কিন্তু চাহিদা অনেক বেশি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দামটা অনেক বেশি।

বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অজিৎ কুমার দাস মনু বলেন, 'শুক্রবার যে পরিমাণ ইলিশ আমদানি হয়েছে তার দুই-তৃতীয়াংশ প্যাকেট করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ফলে শুক্রবার ইলিশের দামটা একটু বেশি। অন্যদিকে শনিবার কোন পাইকার না থাকায় ইলিশের দাম কিছুটা কম। শুক্রবার ইলিশের আমদানি ২৫০ থেকে ৩০০ মণ আর শনিবার আমদানি হয়েছে ১০০ থেকে ১৫০ মণ।'

ইলিশের অভয়াশ্রমগুলোতে জেলেরা মাছ শিকার করতে না পারায় ইলিশের সরবরাহ কম বলে জানিয়ে বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল দাস বলেন, 'সামনের মে মাসে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে বাজারে ইলিশ সরবরাহ বাড়বে। তখন ইলিশের দামও নাগালের মধ্যে আসবে।