advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 03 মিনিট আগে

বাংলা ঋতু অনুযায়ী শীত আসতে এখনো বেশ কিছুদিন বাকি। কিন্তু এরই মধ্যে কুয়াশার মতো ধুলায় ধূসর হয়ে গেছে রাজধানী ঢাকা। এ শহরে ধুলার পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওযায় বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের নগরীতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি এমনই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে বিশ্বের বায়ুমান যাচাই-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এয়ার ভিজ্যুয়ালের প্রতিবেদনে।

air pollution dhaka 2বিষাক্ত ঢাকার বাতাস

বায়ু দূষণ সূচক এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআইয়ের দেয়া তথ্য বলছে, চলতি মাসের ১৭-১৯ তারিখ ঢাকার বায়ু মান ছিল ২৩০-২১২ পিপিএম, যা খুবই অস্বাস্থ্যকর। এর কদিন আগে প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে বায়ু মান ১৯৬ পিপিএম পরিমাপ করার পর তা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এমতাবস্থায় বাতাসের মান স্বাভাবিক রাখতে ভারতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হলেও বাংলাদেশে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

বায়ুমান সূচক অনুযায়ী বায়ু মান স্কেলের ০-৫০ ভালো, ৫১-১০০ সহনীয়, ১০১-১৫০ অসুস্থ্যদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অস্বাস্থ্যকর, ১৫১-২০০ সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর, ২০১-৩০০ খুবই অস্বাস্থ্যকর (জরুরি অবস্থা ঘোষণা) এবং ৩০০-৫০০ সকলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে বায়ু মান ১০০ এর কাছাকাছি পৌঁছালেই শিশুসহ হাঁপানি ও ফুসফুসের রোগীদের বাহিরে বের হতে বারণ করা হয় আর অন্যদের দীর্ঘসময় ধরে বাহিরের কাজকর্ম করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়।

air pollution dhaka 2বিষাক্ত ঢাকার বাতাস

একিউআই'র তথ্য বলছে, ঢাকার বায়ু মান সাধারণত সহনীয় (৫১-১০০) পর্যায়ে থাকে, কখনো কখনো তা বেড়ে ঝূকিপূর্ণ অস্বাস্থ্যকর (১০১-১৫০) পর্যায়ে পৌঁছায়। কিন্তু চলতি শীত মৌসুমের শুরুতেই বায়ু মান সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর (১৫১-২০০) এবং খুবই অস্বাস্থ্যকর (২০১-৩০০) এর মধ্যে ওঠা-নামা করছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবছরই শীতের মৌসুমে বৃষ্টির স্বল্পতা থাকায় ঢাকার বাতাসে ধুলোর পরিমাণ বেড়ে যায়। এরসঙ্গে জনবহুল এই নগরে বিপুল সংখ্যক যান চলাচলের কারণে ধুলায় সর্বোচ্চ মাত্রায় সিসা, ক্যাডমিয়াম, দস্তা, ক্রোমিয়াম, নিকেল, আর্সেনিক, ম্যাঙ্গানিজ ও কপারের উপস্থিতি বাড়ছে। এরসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট ধুলা-বালু বায়ু দূষণের ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করেছে। এছাড়া ঢাকার আশপাশের ইটভাটা ও কল-কারখানা ঢাকার বাতাস দূষিত করে চলেছে।

এসব কারণে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহরের তালিকায় ৭ নম্বরে রয়েছে ঢাকা। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৩০০০ মানুষ বসবাস করার পরেও প্রতিদিন গড়ে ২০০০ নতুন লোক আসছে এ নগরে। অপর এক প্রতিবেদন মতে, বিশ্বের দশটি দূষিত শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান পাঁচ নম্বরে।

air pollution dhaka 1বিষাক্ত ঢাকার বাতাস

এমতাবস্থায় চিকিৎসরাও বলছেন, ঢাকার প্রায় দুই কোটি বাসিন্দা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। এর মধ্যে শিশু, বৃদ্ধ এবং দীর্ঘ সময় ধরে বাহিরে কাজ করা বক্ষব্যাধি, হাঁপানি ও ফুসফুসের রোগীরা সববেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এছাড়া দুষিত বাতাসের কারণে বায়ুবাহিত রোগের আক্রান্তের সংখ্যাও দিনকে দিন বাড়ছে।

এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? এমন প্রশ্নের জবাবে নগরবিদরা বলছেন, ঢাকার বায়ু মান ঠিক রাখতে পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং বায়ু দুষণ রোধে আন্তরিক আরও বেশি আন্তরিক হতে হবে। বিশেষ করে শীতের মৌসুমে রাস্তা খোড়াখুড়ির বন্ধ করতে হবে অথবা চারদিক ঢেকে উন্নয়ন কাজ করলে বায়ু দূষণ কমে আসবে।

এর আগে চলতি বছরের ২৬ জুলাই রাজধানী ঢাকার বাতাস ভয়ংকর অস্বাস্থ্যকর বলে জানিয়েছে বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। ২৫ জুলাই বায়ু মানের ২৪ ঘণ্টার সূচকে (সকাল ৯টা-রাত ১১টা) ঢাকার বাতাসের মান ছিল ১১২-১৭৭। পরদিন ২৬ জুলাই ভোর ৬টায় বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৯-এ। ২০১৬ সাল থেকেই যন্ত্রের মাধ্যমে ঢাকার বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ করছে মার্কিন দূতাবাস।

প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষিত চলতি বছরের ১০টি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে এক নম্বরে রয়েছে বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন। 

এদিকে দূষণের কারণে সোমবার সকালে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বাতাসের মানের মারাত্মক অবনতি হয়েছে। সকাল ৮টায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) ঢাকা ২৪২ স্কোর নিয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষ স্থান লাভ করে। যার মানে হলো শহরের বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’। ভারতের দিল্লি, পাকিস্তানের লাহোর এবং মঙ্গোলিয়ার উলানবাটোর যথাক্রমে ২১১, ১৯৮ এবং ১৯৮ স্কোর নিয়ে পরের তিনটি স্থান দখল করেছে।

sheikh mujib 2020