advertisement
আপনি দেখছেন

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ইউনোট (আন অফিসিয়াল নোট) দিয়েছেন অন্য চার কমিশনার। গতকাল রোববার তারা যৌথভাবে এ ইউনোট দেন। এতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কার্যক্রমে চার কমিশনারকে সম্পৃক্ত না করার অভিযোগ করেছেন তারা। সিইসি ছাড়াও ইসি সচিবের ওপরও ক্ষোভ জানিয়েছেন চার কমিশনার।

cec 4 commissionersসিইসির ও ৪ কমিশনার

ইউনোট প্রদানকারী চার কমিশনার হলেন মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। তাদের যৌথ স্বাক্ষরিত নোটে বলা হয়েছে, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের ৩৩৯ জন কর্মচারী নিয়োগ ছাড়াও আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সচিবালয়ের কার্যক্রমে চার কমিশনারকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। ইসির কোনো সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আমাদের জানানো হয় না, সব সিইসি আর সিনিয়র সচিব মিলেই করছেন।

এতে আরও বলা হয়, ইসি সচিবালয় এককভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন-২০০৯ ও সংশ্লিষ্ট বিধির সুস্পষ্ট লংঘন। এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চার কমিশনার।

ইসিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম নিয়ে গত ১৪ নভেম্বর সিইসির সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয় উল্লেখ করে ইউনোটে বলা হয়, ওই সভায় নিয়োগের বিষয় ও এ সংক্রান্ত ব্যয় ইসির এখতিয়ার বহির্ভূত বলে উল্লেখ করেন সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর। তার মতে সমর্থন দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ওই সভায় সচিব আরও বলেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কেবল নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়াদিতে কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন। ইসি সচিবালয়ের অন্যান্য বিষয়াদি সিইসির অনুমোদনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সবকিছু করা হয়েছে, কোনো অনিয়ম হয়নি। নিয়োগের ৯০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আর ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় ইসি, পিএসসি, জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারাই নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছেন।

নিয়োগে অনিয়ম হলে তা কমিশন তদন্ত করে দেখতে পারে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নিয়োগ কমিটির সুপারিশ আমি সিইসির কাছে উপস্থাপন করেছি। ২০০৯-১০ সাল থেকে এভাবেই হয়ে আসছে।

চার কমিশনারের অভিযোগের বিষয়ে 'যা হয়েছে, তা আইন ও বিধি অনুযায়ী হয়েছে' বলে দাবি করে সিনিয়র সচিব আলমগীর বলেন, ঘরোয়া আলোচনা জনসম্মুখে বলা যাবে না।

জানা যায়, সম্প্রতি ইসি সচিবালয়ে ১২ থেকে ২০তম গ্রেডে ৩৩৯ জন কর্মচারিকে নিয়োগ দেয়া হয়। এসব পদের বিপরীতে ৮৫ হাজার ৮৯৩টি আবেদন জমা পড়ে। এ নিয়োগ কার্যক্রমে ৪ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয় হয় ইসির। সংবিধানিক সংস্থাটির যুগ্ম সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাসের নেতৃত্বে জনবল শাখার সম্পন্ন করা এ নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় জালিয়াতির দায়ে ১৩৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়।