advertisement
আপনি দেখছেন

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, এর অভ্যন্তরে এমন সব অনিয়ম চলে, যা সংবিধান সমর্থন করে না।। সোমবার নির্বাচন ভবনের নিজ কক্ষে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ec mahbub talucdarনির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার

মাহবুব তালুকদার বলেন, অভ্যন্তরীণ অনিয়মের কারণে ইসির কার্যক্রম এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। স্বেচ্ছাচারিতার প্রভাব এত বেশি যে, তা নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ও নির্বাচন কমিশন কার্যপ্রণালী বিধিমালা সমর্থন করে না।

তিনি বলেন, ‘রোববার ইসির এখতিয়ারের বিষয়টি মিডিয়ায় প্রকাশ পায়। এরপরই সাংবাদিকবৃন্দ এর ব্যাখ্যা চায় আমার কাছে। তাই প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে অভিমত ব্যক্ত করতে হলো।’

তিনি আরো বলেন, অনিয়মের অভিযোগে ইসি সচিবালয়ের সাম্প্রতিক কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় ১৩৫ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু কারো বিরুদ্ধেই শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পরবর্তীতে এ ব্যাপারে জানার জন্য সচিবালয়ের কাছে লিখিতভাবে কিছু তথ্য চাওয়া হয়। তারা জানায় যে, পরিচয়পত্রের অমিলের কারণেই এদেরকে ভাইবার সময় বহিষ্কার করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় ৮৫,৮৯৩ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু আসন ছিল মাত্র ৩৩৯টি। প্রশ্নপত্র তৈরি ও উত্তরপত্র যাচাইয়ের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদকে ৪ কোটি ৮ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। এ অর্থ প্রধান নির্বাচন কমিশনার অনুমোদন দেন। কিন্তু কীভাবে এত টাকা প্রদান করা হয়, সে ব্যাপারে কোনো হিসেব নেই। এমনকি পরীক্ষার কমিটিবৃন্দসহ ইসি সচিবালয়ের কেউই এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না।

অনেক ক্ষেত্রেই ইসি সচিবালয়ের কোন দায়বদ্ধতা নেই উল্লেখ করে মাহবুব তালুকদার বলেন, যেকোনো সমস্যাতেই নির্বাচন কমিশনকে দায় বহন করতে হয়। এসব অনিয়ম বন্ধে সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ও নির্বাচন কমিশন কার্যপ্রণালী বিধিমালা কঠোরভাবে পরিপালন করা আবশ্যক। সচিবালয়ের মধ্যে সচ্ছতা না থাকলে নির্বাচনসহ কোনো কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয়।