advertisement
আপনি দেখছেন

রাজধানীতে বায়ু দূষন কমাতে ঢাকাসহ ঢাকার আশে-পাশের পাঁচ জেলার সকল অবৈধ ইটভাটা ১৫ দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ঢাকার পাশের চার জেলার মধ্যে রয়েছে- নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ। এসব এলাকায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

brick field 1ঢাকাসহ আশপাশের ৫ জেলায় অবৈধভাবে চলতে থাকা ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট

একই সঙ্গে ঢাকায় কি কারণে বায়ুদূষণ হচ্ছে এবং বায়ু দূষণ কমাতে কি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে একটি গাইডলাইন তৈরিতে পরিবেশ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশও দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ওই কমিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। সেই সাথে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৫ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনিজল মোরসেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

পরে বাশার সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক এবং পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণ নিয়ে যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে এক নম্বর কারণ হলো ইটভাটা। নরওয়ের একজন বিশেষজ্ঞের দেয়া প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে ঢাকার পরিশেষ দূষণের জন্য ৫২শতাংশ কারণ হচ্ছে ইটভাটা।’

‘ফলে ইটভাটাকে জেল-জরিমানা হোক বা আইনানুগ ব্যবস্থা; পরিশেষ অধিদপ্তর নিচ্ছে। তবে সে ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আদালত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে বলেছেন,’ যোগ করেন তিনি। 

air pollusion dhakaঢাকায় বায়ুদূষণ একটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে

উল্লেখ্য, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে প্রকাশিত খবর ও প্রতিবেদন যুক্ত করে গত ২৭ জানুয়ারি পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ হাইকোর্টে এ রিট আবেদন করে।

পরের দিন ২৮ জানুয়ারি ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি করে হাইকোর্ট ঢাকা শহরে বায়ুদূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সপ্তাহে দুবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন।

আদেশে বলা হয়, রাজধানীর যেসব জায়গায় উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ চলছে সেসব জায়গা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এমনভাবে ঘিরে ফেলতে হবে যাতে ধুলো ছড়িয়ে বায়ুদূষণ বাড়তে না পারে। পাশাপাশি ‘ধুলোবালি প্রবণ’ এলাকাগুলোতে দিনে দুবার করে পানি ছিটাতে হবে।

এছাড়া, হাইকোর্ট বায়ু দূষণ রোধে নিষ্ক্রিয়তার ব্যাপারে রুল জারি করেন। এ রিটের শুনানির ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার উপরোক্ত আদেশ দেন হাইকোর্ট।