advertisement
আপনি দেখছেন

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েস এ রায় ঘোষণা করেন।

dia mother criyingনিহত দিয়া খানম মীমের মা রোকসানা বেগম

এদিকে রায়ের দিন মেয়ে হারানোর শোকে বারবার কেঁদে উঠছেন নিহত দিয়া খানম মীমের মা রোকসানা বেগম। মহাখালীর দক্ষিণপাড়ায় অবস্থিত দিয়ার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, মেয়ের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন ফটো সামনে নিয়ে বসে আছেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রোকসানা বেগম বলেন, আমার মেয়েটাকে নিয়ে অনেক আশা ছিল। বড় হয়ে সে আইনজীবী হতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

মেয়ের হারানোর কষ্ট ভুলতে নিজের ছোট মেয়েটির নামও দিয়া খানম মীম রেখেছেন তিনি। তার বয়স এখন চার মাস বলে জানান রোকসানা বেগম।

মামলার রায় শোনার পর সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মেয়েকে তো আর ফিরে পাব না। তাই ন্যায়বিচার করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এখন একটাই চাওয়া, কলেজের সামনের রাস্তায় যে আন্ডারপাস নির্মাণ করা হচ্ছে তা যেন দিয়া ও রাজীবের নামে নামকরণ করা হয়।’

নিহত দিয়ার বড় বোন রোকেয়া খানম রিয়া বলেন, ‘ঘটনার দিন সকালে নাশতা করে দিয়া কলেজে যাওয়ার পর আমিও কলেজে যাই। ক্লাস শেষে বাসায় ফিরে দেখি কেউ নেই। তখন পাশের বাসার আন্টিরা জানালেন, দিয়া অ্যাকসিডেন্ট করেছে।’

দিয়া মারা যাওয়ার পর গত একবছর ধরে রোকসানা বেগম সবসময় কান্না করে। ঠিকভাবে খাওয়াদাওয়া করেন না। তাই ছোট বোনটিকে নিজের কাছে রাখেন বলে জানান রিয়া।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব (১৭) ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৬) বাস চাপায় নিহত হন। জাবালে নূর পরিবহনের দুইটি বাস রেষারেষি করতে গিয়ে তাদের চাপা দেয়। এ সময় আহত হন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।