advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 32 মিনিট আগে

ছবি দেখে বোঝাই যাচ্ছে, আধুনিক সুপারশপের গল্প নয় বরং নিম্ন আয়ের মানুষের এক বাজারের কথাই বলা হচ্ছে। এই বাজারের বয়বৃদ্ধ বিক্রেতারা অনেকটা সহানুভূতির ওপরই বেঁচে আছেন। তারা ভিক্ষাবৃত্তি না করে ব্যবসার পথ বেঁছে নিয়েছেন। তাই প্রয়োজনে হোক কিংবা অপ্রয়োজনেই হোক, তাদের ক্রেতা হচ্ছেন কেউ কেউ। রাজধানীর মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনের মুসলিম বাজারের এ চিত্র যে কাউকে ভাবিয়ে তুলবে।

hats poor

এসব অসহায় মানুষ জানান, বয়স আশি পেরিয়ে গেলেও সন্তানরা তাদের দায়িত্ব নিচ্ছে না। তাই ঠিকমতো খেতেও পারছেন না দুবেলা। জীবনের তাগিদে নড়তে চড়তে না পারলেও বাজারের এক কোণায় সামান্য কিছু পণ্য নিয়ে বসেন রোজ। এসব বিক্রি করে যে কয়টাকা পান, তা দিয়েই একবেলার খাবার জোটে তাদের। এভাবেই জীবনযুদ্ধ করে চলেছেন তারা।

কেন তারা এমন জীবন বেঁছে নিলেন, জানতে চাইলে বলছেন, সন্তানরা খোঁজখবর না নিলেও ভিক্ষাবৃত্তি করতে চান না। সামর্থ্য অনুযায়ী সামান্য পণ্য বিক্রি করেই আত্মসম্মানের সঙ্গে জীবন যাপন করতে চান।

তাদের পণ্যের ক্রেতারা জানান, এখানে যেসব পণ্য পাওয়া যায়, তা হয়তো সকল কাঁচাবাজারেই পাওয়া যাবে। কিন্তু অসহায় এ মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতেই তাদের কাছ থেকে পণ্য কেনেন তারা। এতে বৃদ্ধ মানুষগুলো বড়লোক না হলেও অন্তত একবেলা খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবেন।

দাম বেশি না চাওয়া হলেও এমন বাজারেও দরদাম করে পণ্য কিনতে দেখা যায় ক্রেতাদের। এর বড় কারণ হলো, এখানকার বিক্রেতারা যেমন নিম্ন আয়ের মানুষ, তাদের ক্রেতারাও একই ধরনের। তাই দরদাম করেই চলে বেচাকেনা, তবে এ নিয়ে আক্ষেপ নেই কারো।

জানা গেছে, এসব বিক্রেতাদের কেউ নিজের গাছের ফল বা খেতের সফল নিয়ে এসেছেন শহরতলী থেকে, কেউ কারওয়ান বাজারের কাঁচাবাজারের থেকে পণ্য আনলোডের সময় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়া জিনিসপত্র কুড়িয়ে নিয়ে আসেন বিক্রির জন্য।

গরীব এই মানুষগুলো বলছেন, অল্প দামের বাজারে পণ্য বিক্রি করে তারা যে পয়সা আয় করেন, তা খাবার কিনতেই শেষ হয়ে যায়। তাদের আরজি, প্রয়োজন না থাকলেও অন্তত এক একদিন এক একজন মানুষ যদি তাদের পণ্য কিনলে বাঁচবেন তারা। এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়া নেই এই মানুষগুলোর।

sheikh mujib 2020