advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 56 মিনিট আগে

১০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ ও মুক্তাগাছার মাটি থেকে কালোছায়া মুক্ত নতুন সুর্য উদিত হওয়ার দিন। ১৯৭১ সালের এ দিনে মুক্তিবাহিনীরা স্বাধীনতাবিরোধী পাকহানাদার বাহিনীর কবল থেকে ময়মনসিংহ ও মুক্তাগাছাকে মুক্ত করে অর্জন করেন স্বাধীনতা।

maymansing free dayময়মনসিংহ ও মুক্তাগাছা মুক্ত দিবস

২৬ মার্চ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সবাই জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সংগ্রামী ছাত্র-জনতা ২৭ মার্চ শহরের খাগডহর এলাকার তৎকালীন ইপিআর ক্যাম্প ঘেরাও করেন। ক্যাম্পে থাকা ইপিআরের বাঙ‍ালি সদস্যরা ছাত্র-জনতার সঙ্গে যোগ দিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার লড়াইয়ে পাকবাহিনীর ১২১ সদস্য নিহত হয় ও ১৭ জন আত্মসমর্পণ করে। শহিদ হন দেলোয়ার, আনোয়ার, আবু তাহেরসহ সাতজন মুক্তিযোদ্ধা। এরপর ময়মনসিংহ জেলায় মুজিবনগর সরকারের কর্মকর্ত‍া-কর্মচারীসহ এফএফ, এমএফ, বিএলএফ ও স্থানীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।

এর আগে ১৭ এপ্রিল, মুধুপুরে অবস্থানরত অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দেন মুক্তাগাছার তরুণরা। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বর্বর পাকবাহিনীর নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন, গণহত্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে মুক্তাগাছার জনপদ। মুক্তিকামী জনতা সকল বাধা অতিক্রম করে হানাদারবাহিনী ২৩ এপ্রিল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে জিপ ও ট্রাকের এক বহর নিয়ে জামালপুর থেকে ময়মনসিংহে যাওয়ার পথে দখল করে নেয় মুক্তাগাছা। এ সময় তারা রাস্তার দুই পাশের জনবসতির ওপর অবিরাম গুলিবর্ষণ করে। শহরের বিভিন্ন স্থানে লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগ করে। পাকসেনাদের গুলিতে শহাদাতবরণ করেন নাম না জানা অনেকেই।

এরপরই বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়ে যায় পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তি বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ। মুক্তাগাছা থানার বটতলা, চরাঘাটি, মুক্তাগাছা থানা ও ভিটি বাড়ি যুদ্ধ অন্যতম। এ সকল যুদ্ধে রেফাছ উদ্দিন, ডাঃ বাবর আলী, রিয়াজ উদ্দিন, জুবেদ আলী ও ইব্রাহিম সুবেদার এর নেতৃত্বে বিপুল পরিমাণ মুক্তিযোদ্ধা সাহসিকতার সাথে লড়াই করেন।

maymansing free day2

২৯ এপ্রিল, সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাটের পানিহাটা ক্যাম্প মুক্তিযোদ্ধাদের হাতছাড়া হলে হাজার হাজার মুক্তিপাগল জনতা ভারতের মেঘালয় রাজ্যে আশ্রয় নেন। অনেকেই ইয়ুথ ক্যাম্পের মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে এফএফ এবং বিএলএফ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

২ আগস্ট, স্থানীয় রাজাকার ও আলবদরদের সঙ্গে নিয়ে পাকবাহিনী মুক্তাগাছার ১০টি গ্রামে নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। এ সময় তারা তিন শতাধিক নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করে। শহরের জমিদার বাড়ির ইদারা (কূপ), ময়লাখানা মাঝিপাড়া, মুজাটি, মহেশপুরসহ বিভিন্ন স্থানে গণহত্যা সংঘটিত হয়। বিভিন্ন স্থানে সম্মুখ যুদ্ধও সংঘটিত হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণে ৯ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে টাঙ্গাইলের পথে পালিয়ে যায় হানাদার বাহিনী। ১০ ডিসেম্বর মুক্তিকামী জনতা মুক্তির পতাকা উড়িয়ে বিজয় মিছিল করে। হানাদার মুক্ত হয় ময়মনসিংহ ও মুক্তাগাছা।

sheikh mujib 2020