advertisement
আপনি দেখছেন

মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর আজ ১৪০তম জন্মদিন। ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের সোয়া ধানগড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। বাবা হাজি শারাফত আলীর এক মেয়ে ও তিন ছেলের মধ্যে আবদুল হামিদ খান ছিলেন সবার ছোট। তার ডাক নাম ছিল চেগা মিয়া।

maulana basani leaderমওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী

জন্মদিনে এই মহান নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বাণী দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বাণীতে ফখরুল বলেন, মওলানা ভাসানী ছিলেন মজলুমের বন্ধু, সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ এবং অত্যাচারী শাসক ও শোষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এক আপসহীন নেতা। নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের দাবিতে তিনি ছিলেন সর্বদা সোচ্চার।

স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষায় মওলানা ভাসানী যুগ যুগ ধরে দেশের মানুষকে প্রেরণা জোগাবে। তরুণ ও যুব সমাজকে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে।

মহান এই নেতা ১৯৩৭ সালে সর্বভারতীয় কংগ্রেস ত্যাগ করে মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯৭১ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসহযোগ আন্দোলন সমর্থন করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারত গিয়ে মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন মওলানা ভাসানী। ২৫ মার্চ কালোরাত্রিতে মওলানা ভাসানী সন্তোষে তার গৃহে অবস্থান করছিলেন। পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী তার বাড়িটি পুড়িয়ে দেয়।

রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সমাজ সংস্কারমূলক কাজেও যুক্ত ছিলেন। জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে মহিপুর হক্কুল এবাদ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। যার অধীনে একটি মেডিকেল কলেজ,  টেকনিক্যাল স্কুল, হাজী মুহসিন কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।

ভারতের আসামে ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। নিজ জন্মস্থানে কারিগরী শিক্ষা কলেজ ও শিশু কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও কাগমারিতে মওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ,  সন্তোষে ‘সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’। যা পরবর্তীতে ২০০২ সাথে ‘মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন এই মহান রাজনীতিবিদ।