advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 48 মিনিট আগে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের নেতাদের দাবি অনুযায়ী ৩০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় শেখ রাসেল স্কুল ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে গেছে। তবে ছাত্রলীগ নেতারা এ অভিযোগকে বানোয়াট বলেছেন।

ru construction work

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই রাবির জুবেরী মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে প্রায় ১ দশমিক ৩ একর জায়গায় শেখ রাসেল স্কুলের চারতলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। মেসার্স শিকদার কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড বিল্ডার্স ১০ কোটি ৫৯ লাখ টাকায় নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায়। আর নির্মাণকাজের তত্ত্বাবধান করছেন নগরের কাজলা এলাকার বাসিন্দা মমতাজউদ্দীন।

তিনি রোববার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ‘গত ৫ জুলাই রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন চারতলা ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ৩০ জুলাই তিনি নির্মাণকাজ শুরু করেন। ৩১ জুলাই প্রথমবারের মতো ছাত্রলীগের লোক সাইটে এসে ঝামেলা করে। এরপর তারা কয়েকবার আসে।’

মমতাজউদ্দীন জানান, বিষয়টি নিয়ে গত ১০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কেন সাইটে এসে ঝামেলা করছেন, তা জানতে চাইলে ওই দুইজন বলেন, ‘শোনেন ভাই, আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসা করছেন। আমাদের সাথে মিটমাট না করলে হবে না।’

এ সময় তারা তার কাছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি তাদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিকদার কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে কথা বলতে বললে রাজি হননি ছাত্রলীগের নেতারা।

মমতাজউদ্দীন জানান, বিষয়টি তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। বিষয়টি উপাচার্যকে জানালে তিনি ছাত্রলীগের ওপর ক্ষুব্ধ হন। সেইসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে বলেন।

এর পরও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে সাইটে এসে চাঁদা দাবি করতে থাকেন বলে দাবি করেন মমতাজউদ্দীন। সর্বশেষ রোববার বেলা ২টার দিকে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুরঞ্জিত প্রসাদসহ দুইজন সাইটে এসে আশরাফুল ইসলাম নামের এক ম্যানেজারের খোঁজ করেন। আশরাফুলকে না পেয়ে তারা আবুবকর নামের এক ব্যবস্থাপকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। কিছুক্ষণ পর তারা আবার এসে আশরাফুলকে মোটরসাইকেলে করে ডিনস কমপ্লেক্সের পেছনে নিয়ে যান।

পরে আশরাফুল ক্যাম্পাসে কয়েকজন সাংবাদিককে বলেন, সেখানে তারা তাকে মমতাজউদ্দীন ও ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের সঙ্গে টাকার বিষয়টি ‘মীমাংসা’ করতে বলেন। এর আগ পর্যন্ত তারা কাজ বন্ধ রাখতে হুমকি দেন।

এই ঘটনার পর মমতাজউদ্দীন স্কুল ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেন। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে।’

তবে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুরঞ্জিত প্রসাদ এবং সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে মন্তব্য করেছেন।

sheikh mujib 2020