advertisement
আপনি দেখছেন

ভারতীয় সিরিজ ‘ক্রাইম পেট্রল’ দেখে এক বন্ধুকে হত্যার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশের তিন শিশু। অবশ্য পরিকল্পনা অনুযায়ী শিশুটিকে আখখেতে নিয়ে বেদম মারধরের পর শেষ মুহূর্তে পুলিশ গিয়ে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেছে। গত রোববার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে। এ ঘটনায় ওই তিন বন্ধুকে আটক করেছে পুলিশ।

yassir arafatইয়াসির আরাফাত

পুলিশ জানিয়েছে, চলতি বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা দেয়া ইয়াসির আরাফাতের একজোড়া রোলার স্কেটস নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। তার স্কেটসজোড়া কিনলেও টাকা দিতে পারছিল না এক বন্ধু। পরে টাকার বদলে বন্ধুর একজোড়া কবুতর চেয়ে বসে আরাফাত। এরপরই দুই বন্ধুকে নিয়ে ‘ক্রাইম পেট্রল’র মতো করে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে তিন বন্ধু। সে অনুযায়ী আরাফাতকে ডেকে আখখেতে নিয়ে বেদম মারধর করে তারা। খবর পেয়ে শেষ মূহূর্তে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত আরাফাতের তিন বন্ধুকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুই জন ষষ্ঠ শ্রেণির এবং একজন সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। তাদের সবার বাড়ি ঈশ্বরদী উপজেলায়। আটকের পর তাদের সঙ্গে নিয়ে রোববার রাতে আখখেত থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় আরাফাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

পুরো ঘটনাটি তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন ঈশ্বরদী থানার এসআই অসিত কুমার বসাক। তার বর্ণনা অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টায় আরাফাত ঘর থেকে বের হয়ে দুপুর গড়িয়ে গেলেও বাড়ি ফেরেনি। বিষয়টি আরাফাতের পরিবার থানায় জানালে পুলিশ তার এক ঘনিষ্ট বন্ধুকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী তার আরও দুই বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারাও একই তথ্য দেয়। এভাবে প্রায় দেড় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সত্য বললে কিছু হবে না- পুলিশের এমন আশ্বাসে এক বন্ধু স্বীকার করে আরাফাতের লাশ কোথায় রাখা হয়েছে, তা সে জানে। এরপর তাকে নিয়ে ঈশ্বরদী থানা থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে এক আখখেতে গিয়ে পৌঁছায় পুলিশ, তখন  রাত ১১টা।

মারধরের পর থেকে প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে অনেক রক্তক্ষরণের পরও আরাফাত বেঁচে ছিল। লোকের উপস্থিতি বুঝতে পেরে অস্ফুট স্বরে সে বলে, ‘আপনারা কারা? আব্বা-আম্মা কোথায়? আমাকে একটা বালিশ দিন, আমি ঘুমাব।’

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ওসি বাহাউদ্দিন ফারুকী গতকাল মঙ্গলবার রাতে বলেন, এ ঘটনায় আটক আরাফাতের তিন বন্ধু জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তারা ভারতীয় ক্রাইম পেট্রল দেখে সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করে বন্ধুকে হত্যার চেষ্টা করেছে। তাদেরকে আটকের পর যশোর শিশু সংশোধনাগার কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।