advertisement
আপনি দেখছেন

নীরব জোন হিসেবে ঘোষিত রাজধানীর সচিবালয় এলাকায় গাড়ির হর্ন বাজানোর অপরাধে এক উপসচিবের গাড়ি আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি জরিমানা হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওই উপসচিবের কাছ থেকে ৫০০ টাকাও আদায় করা হয়েছে।

deputy secretary car

বৃহস্পতিবার বিকালে পরিবেশ অধিদপ্তরের আওতাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজিদ আহমেদ উপসচিবের কাছ থেকে এ জরিমানা আদায় করেন। এর আগে দুপুর থেকে নীরব জোন হিসেবে ঘোষিত ওই এলাকাকে গাড়ির হর্নমুক্ত রাখতে অভিযান শুরু করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কাজী তামজিদ আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, নীরব জোন হিসেবে ঘোষিত সচিবালয়ের সামনের রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক উপসচিব হর্ন বাজান। এ সময় উপসচিব নিজেই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, নীরব এলাকায় হর্ন বাজানোর অপরাধে ওই উপসচিবকে ৫০০ টাকা জরিমানা করে সঙ্গে সঙ্গে আদায় করা হয়। তবে ওই উপসচিবের নাম প্রকাশ করেননি ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজিদ আহমেদ।

এদিকে নীরব জোনের আওতাধীন সচিবালয় এলাকায় গাড়ির হর্ন বাজানোর অপরাধে দুপুর থেকে একাধিক প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, গণমাধ্যমকর্মীদের যাতায়াতের গাড়ি, জিপসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি আটক করা হয়। শব্দ দূষণের অপরাধে এসব গাড়ির মালিক ও চালককে ১৫টি মামলা দেয়া হয় এবং চার হাজার টাকা জরিমান আদয় করা হয়।

media car caught

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকাল থেকে সচিবালয়ের চারপাশকে নীরব এলাকা হিসেবে কার্যকর করা হয়। অত্র এলাকায় কেউ হর্ন বাজালে তাকে প্রথমবার সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

এর আগে গত ৮ ডিসেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শব্দ দূষণরোধে রাজধানীর জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড় ও সচিবালয় লিংক রোড হয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকাকে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ এর অধীনে প্রণীত ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০০৬’ অনুযায়ী, ‘নীরব এলাকা’ বলতে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত বা একই জাতীয় অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এবং এর চারদিকে ১০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাকে বোঝায়।