advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 21 মিনিট আগে

রোগীদের অপ্রয়োজনীয় ও অযথা স্বাস্থ্য পরীক্ষা দিয়ে অতিরিক্ত অর্থলাভের প্রবণতার সমালোচনা করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এ ধরনের চর্চা থেকে চিকিৎসকদের বিরত থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

president in doctor program

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রায়ই বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভুল চিকিৎসা ও রোগীকে হয়রানি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের খবর বের হয়। রাজধানীর নামীদামি ক্লিনিক থেকে শুরু করে মফস্বলের কিছু ক্লিনিক এ অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। যার জন্য কিছু চিকিৎসকের অপকর্মের দায় পুরো চিকিৎসক সমাজের ওপর পড়ে।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর এক হোটেলে বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি আয়োজিত আন্তর্জাতিক কার্ডিওভাসকুলার কনফারেন্স ‘বাংলাকার্ডিও-২০১৯’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

‘অপকর্মের ফলে চিকিৎসক ও রোগীর আস্থার সম্পর্কে ফাটল ধরে। এসব ব্যাপারে আপনাদের সজাগ থাকতে হবে এবং দোষী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে,’ বলেন তিনি।

বাজারে যাতে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ আসতে না পারে সে বিষয়ে চিকিৎসকদের খেয়াল রাখার তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি। সেই সঙ্গে তিনি দেশে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা ব্যবস্থা চালুর জন্য দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসক গড়ে তোলার প্রতি জোর দেন।

সরকার দেশে আধুনিক চিকিৎসা প্রবর্তনে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে আধুনিক ও উন্নত যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে।

doctor program 19 12 19

‘কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে অনেক সময় হাসপাতালে সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার মতো জনবল থাকে না। থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার অভাবে যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে একদিকে জনগণের টাকার অপচয় হচ্ছে অন্যদিকে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে নজর দেয়ার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই,’ বলেন তিনি।

এছাড়া, রাষ্ট্রপতি চিকিৎসা সামগ্রী কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মত দেন।

আবদুল হামিদ বলেন, ‘চিকিৎসক হিসেবে আজকে আপনাদের যে অবস্থান তাতে আপনাদের মা-বাবা ও অভিভাবকদের পাশাপাশি এ দেশের সাধারণ মানুষের অনেক অবদান রয়েছে। তাই তাদের কথা ভুলবেন না।’

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও হৃদরোগ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা এ দেশে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসাবে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এ ঘাতক রোগের হাত থেকে আমাদের স্বজনকে-জনসাধারণকে রক্ষা করতে এখনই সচেতন হতে হবে। দেশবাসীকে এ রোগের কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানাতে হবে। হৃদরোগের চিকিৎসা যেহেতু ব্যয়বহুল, তাই প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।’

বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি দেশে হৃদরোগ চিকিৎসায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল গড়ে তুলতে সর্বোপরি দেশে হৃদরোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম-প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং বাংলাকার্ডিওর মতো আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি এ লক্ষ্যে ইতিবাচক অবদান রেখে যাচ্ছে। তারা ভবিষ্যতেও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক, জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার আবদুল মালিক (অব.), বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম মহিবুল্লাহ, মহাসচিব অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল সাফী মজুমদার, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মীর জামাল উদ্দিন ও যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এনসি নান্দা অন্যান্যের মাঝে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ইউএনবি।

sheikh mujib 2020