advertisement
আপনি দেখছেন

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে দেশের প্রথমবারের মতো ক্যাডাবেরিক কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই ক্যাডাবেরিক কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের অর্থ হলো ক্লিনিক্যালি ডেথ বা ব্রেন ডেথ ঘোষিত রোগীর কিডনি সংগ্রহ করে তা অন্য রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা।

kidney transplant

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। ‘মরণোত্তর অঙ্গ দান ও সংযোজন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করে সোসাইটি অব অরগ্যান ট্রান্সপ্ল্যান্ট।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, শীঘ্রই দেশে ক্যাডাবেরিক কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি করা হবে। মুজিববর্ষে প্রথমবারের মতো এ সার্জারি করার আশা করা হচ্ছে। তবে এর আগেই এই সার্জারি করা যায় কিনা সেটিও চেষ্টা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, কিডনি সার্জন ও চিকিৎসকরা ইতোমধ্যে রাজধানীসহ সারাদেশে প্রায় দুই হাজার রোগীর কিডনি সফলতার সঙ্গে প্রতিস্থাপন করেছেন। তার মধ্যে শুধু বিএসএমএমইউতেই ৫৫৮ জন রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়।

kidney transplant meeting

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য তুলে ধরে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং সোসাইটি অব অরগ্যান ট্রান্সপ্লানটেশনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদ বলেন, প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় দুই কোটি মানুষ কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের কিডনিই বিকল হয়ে যায় সম্পূর্ণ রূপে। অথচ চিকিৎসা সেবা পায় মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ। বাকি ৮০ শতাংশ থেকে যায় চিকিৎসার বাহিরে।

তিনি আরো বলেন, উন্নত বিশ্বে ৬০ শতাংশ রোগী মরণোত্তর কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নতুন জীবন ফিরে পায়। বাংলাদেশে ১৯৮২ সাল থেকে কিডনি সংযোজন ও ডায়ালাইসিসি সেবা চালু থাকলেও ক্যাডাবেরিক কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট এখনো চালু হয়নি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশেও কিডনি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যার ফলে বেশিরভাগ রোগীই কিডনি প্রতিস্থাপন করতে পারছে না।