advertisement
আপনি দেখছেন

৪০-৫০ টাকার পেঁয়াজ এবার বিক্রি হয়েছে ২০০-২৫০ টাকায়। পেঁয়াজের এই ঝাঁঝের ছোঁয়া লেগেছে চারায়ও। পেঁয়াজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চারার দাম বেড়েছে প্রায় ২০ গুণ। গত বছর প্রতি পণ (৮০টি) পেঁয়াজ চারা ৬০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এবার তা বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়। এমন চিত্রই মিলেছে উত্তরবঙ্গে জেলা গাইবান্ধার বিভিন্ন খুচরা বাজারে। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

onion chara

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে চাষ করা পেঁয়াজের চারা বিক্রির জন্য স্থানীয় বাজারে তোলা হয়। সেখানকার পুরাতন ফুলছড়ি হাট ঘুরে দেখা গেছে, এক পণ অর্থাৎ ৮০টি চারা ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চারার দাম বাড়ার করণে সমস্যায় পড়েছেন বলে জানান পেঁয়াজ চাষীরা।

পেঁয়াজের চারা সংগ্রহ করতে আসা কৃষকরা বলছেন, এবার পেঁয়াজের দাম বাড়ায় কৃষকরাও ভালো লাভের মুখ দেখেছেন। তাই বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ করার ইচ্ছে থাকলে চারার দাম দেখে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন তারা।

তারা জানান, গত বছরের জানুয়ারিতে পেঁয়াজের দাম কম থাকায় চারার দামও কম ছিল। কিন্তু এবার পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় চারার দামও বেড়েছে বহুগুণ। দামের কারণে অনেক কৃষককে পেঁয়াজের চারা না কিনেই বাড়ি ফিরে যেতে দেখা গেছে।

onion seedlings

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাঘাটা উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার দেবাষিশ চন্দ্র মোদক জানান, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওযায় এ বছর চারার দামও অনেক বেড়েছে। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় চাহিদা অনুযায়ী পেঁয়াজের চারা বা বীজ সরকারিভাবে কৃষকদের সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরেও এ উপজেলায় ৫ জন কৃষককে এক কেজি করে ৫ কেজি পেঁয়াজের বীজ ও সারসহ বিভিন্ন উপকরণ দেয়া হচ্ছে।

চলতি বছর গাইবান্ধা জেলার ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান। এর মধ্যে ৬০০ হেক্টরে বীজ এবং ৬০০ হেক্টরে চারা দিয়ে চাষ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বরে ভারত পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানির মূল্য ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করায় বাংলাদেশের বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৬৫ ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। এরপর ধাপে ধাপে পেঁয়াজের দাম বেড়ে ২৫০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। দেশি নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসায় দাম এখন কিছুটা নাগালে।