advertisement
আপনি দেখছেন

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

supreme court area security

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের মাজার গেটের প্রবেশপথে তল্লাশি এবং পরিচয়পত্র চেক করে জনসাধারণকে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনটি দিনের কার্যতালিকার এক নম্বরে রয়েছে।

এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আবেদনটি উপস্থাপনের পর আদালত ২৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন। ওইদিন আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে উচ্চ আদালতের আদেশ দেখে পরবর্তী সময়ে বৈঠক ডেকে কর্মপন্থা ঠিক করবে বিএনপি। গতকাল শনিবার বিকাল ৪টা থেকে চার ঘণ্টা চলা গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক মুলতবি করার আগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করেন স্থায়ী কমিটির নেতারা। নেতাদের ভাষ্য, আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়াকে মানবিক দিক বিবেচনায় আদালত তাকে জামিন দেবেন।

যদি জামিন না দেন, তা হলে ধরে নিতে হবে আদালত স্বাধীন নয়। বৈঠকের পর গণমাধ্যমকে কোনো কথা বলেননি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। লন্ডন থেকে স্কাইপে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক একটি মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। অতীতে অনেক রাজনীতিবিদ অসুস্থতাজনিত কারণে জামিন পেয়েছেন।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দেরিতে হলেও খালেদা জিয়া সুবিচার পাবেন। দেশের মানুষেরও প্রত্যাশা, জামিন নিয়ে তিনি উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

অপর আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, খালেদা জিয়া জামিন পাবেন বলে তারা আশাবাদী। একজন বয়স্ক নারী হিসেবে মানবিক কারণে দেশের মানুষও খালেদা জিয়ার জামিন চায়।

তবে দুদকের আইনজীবী মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, শুনানিতে তারা কোনো ছাড়া দেবেন না।

উল্লেখ্য, দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। অসুস্থ থাকায় বর্তমানে কারা তত্ত্বাবধানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

sheikh mujib 2020